ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহামুদ হোসেন, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
সমাবেশে রফিউর রাব্বি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের কাঠামোয় তেমন পরিবর্তন আসে না। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে আমলাদের পরামর্শেই সরকারগুলো গণবিরোধী ও দেশবিরোধী চুক্তিতে জড়িয়েছে। দেশের জ্বালানি সংকটের জন্যও তিনি আমলাতান্ত্রিক নীতিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও তা কাজে না লাগিয়ে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।
রফিউর রাব্বির দাবি, ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য ও জ্বালানি কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকারকে চুক্তিটি বাতিল করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত বাতিল, ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে স্বাক্ষরিত ছয় দফা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আমিন, তরিকুল ও সালেকিন নিহত হন এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন বলে তারা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের ছয় দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


































