নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মান্নানের বিরুদ্ধে ফের জমি দখল, মাটি কেটে নেওয়া ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযান চলাকালে মান্নান দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি আবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে মান্নান মুছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল ও মাটি কাটাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ভুক্তভোগী মামলা ও অভিযোগ করেছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা সেলিম ওসমান এবং মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে মান্নান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন নীরব থাকার পর বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে মান্নান ফের জমি দখল ও মাটি কাটার মতো কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মান্নানের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর পুনরায় সক্রিয়তায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, জমি দখল বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করে প্রকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তবে মান্নানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।


































