নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

২৭ আগস্ট ২০২৬

কাঁচপুরে লিটন হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা ডালিম

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:৫৫, ২৬ আগস্ট ২০২৬

কাঁচপুরে লিটন হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা ডালিম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ডালিমকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পরে তাকে আরও একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সোনারগাঁ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ডালিম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। তিনি জানান, পরে ডালিমকে আরও একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

ডালিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আসন্ন কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে তার। নির্বাচনের আগে মামলাগুলোতে জামিনে থাকার উদ্দেশ্যেই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

৫০ বছর বয়সী বিএম ডালিম কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার প্রয়াত কুদরত আলীর ছেলে।

লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর কাঁচপুরের একই এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিটন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় বোন রাশিদা বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে। দুই নম্বর আসামি হিসেবে বিএম ডালিমের নাম রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে ডালিম পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করলেও স্থানীয়ভাবে তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। গত ২১ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও তাকে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এসপি কার্যালয়ে ডালিমের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওইদিন চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করা হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলে সেখানে বিএম ডালিমকে দেখা যায়।

সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার সময়ও ডালিম এসপি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় তার উপস্থিতির ছবি ধরা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডালিম সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সজীব আটকের খবর পেয়ে তিনি এসপি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সজীবকে গাড়িতে তোলার পরপরই ডালিম সেখান থেকে চলে যান।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেছিলেন, হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির এসপি কার্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং কারও বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিয়ের স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ

এদিকে সম্প্রতি বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে এবং পরে বিয়ের স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা ফারজানা আক্তার কানন নামে এক বিধবা নারী।

কাননের অভিযোগ, ডালিম তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মিথ্যা আশ্বাসে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে গত বছরের ১০ মে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শরিয়াহ পদ্ধতিতে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে নিবন্ধনের আশ্বাস দিলেও ডালিম তা করেননি। বিয়ের স্বীকৃতি চাইলে ডালিম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন কানন।

ফারজানা আক্তার কানন বলেন, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগে প্রতারণা করেছে ডালিম। আমি স্বীকৃতি চাওয়ায় ডালিম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তা চাই, একই সঙ্গে স্ত্রীর স্বীকৃতিও চাই।”

তিনি আরও জানান, গত বছর ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে ডালিম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে তার অভিযোগ।