তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ ও বিজয়ের আনন্দে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চেইঞ্জেস স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইসদাইর বাজারসংলগ্ন ক্যাপ্টেন এরিনায় অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নেয়।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মাঠে দুরন্ত গতিতে বল ছুটে চলা, গোলের মুহূর্তে উচ্ছ্বাস, সতীর্থদের জয়ধ্বনি ও দর্শকদের করতালিতে ক্যাপ্টেন এরিনা পরিণত হয় প্রাণবন্ত এক ক্রীড়া উৎসবে।
শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দলগত ঐক্য, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং হার-জয়কে সসম্মানে গ্রহণ করার শিক্ষা পেয়েছে।
চেইঞ্জেস স্কুলের অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বিজয়ী হয়েছে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন এবং যারা এবার বিজয়ী হতে পারেনি, তাদেরও সাধুবাদ জানাই। জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অংশগ্রহণ, চেষ্টা এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার এই উদ্দীপনাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য গর্ব বয়ে আনবে।”
চার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে চার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে—
জুনিয়র গ্রুপ: চ্যাম্পিয়ন—ওয়ারিয়র্স টিম-এ (ক্লাস-২); রানারআপ—দ্য টাইগার্স (ক্লাস-১)।
জুনিয়র গ্রুপ: চ্যাম্পিয়ন—হিটার্স (ক্লাস-৪); রানারআপ—দ্য চ্যালেঞ্জার্স (ক্লাস-৩)।
মিড গ্রুপ: চ্যাম্পিয়ন—টিম ফ্যান্টম (ক্লাস-৭); রানারআপ—দ্য অবসিডিয়ান্স।
সিনিয়র গ্রুপ: চ্যাম্পিয়ন—স্প্যানিশ পাইরেটস (ক্লাস-৮); রানারআপ—দ্য ঈগলস (ক্লাস-৯-১০)।
সেরা খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি
টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য চার গ্রুপে বেস্ট প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন—রেদওয়ান (ওয়ারিয়র্স), আরিক (হিটার্স), সাফওয়ান (টিম ফ্যান্টম) ও সুহান (স্প্যানিশ পাইরেটস)।
অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে অসাধারণ দক্ষতার স্বাক্ষর রাখায় বেস্ট গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন—ইসমাঈল (ওয়ারিয়র্স), ফারহান (টিম লায়ন), রাদ (টিম ফ্যান্টম সিএফ) ও মুনতাজির (স্প্যানিশ পাইরেটস)।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন চেইঞ্জেস স্কুলের অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক মি. হোসাইন, মি. লিঙ্কনসহ স্কুলের শিক্ষকরা।
পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও গর্বের ছাপ। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়রা ট্রফি হাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং সতীর্থদের সঙ্গে বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেয়। শিক্ষক ও অভিভাবকদের করতালি ও শুভকামনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাপ্টেন এরিনা।
আয়োজনের মধ্য দিয়ে চেইঞ্জেস স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ প্রমাণ করেছে, শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলাও শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে ওঠা শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, সহমর্মিতা ও দলগত চেতনা ভবিষ্যৎ জীবনে শিক্ষার্থীদের আরও আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


































