মাদক সেবনে মৃত্যু নয়, খেলাধুলায় জীবন জয়—হাতে হাতে ব্যাট-বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্রিকেট ব্যাট ও ফুটবল বিতরণ করেছে মাসদাইর যুব সমাজ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
মাসদাইর যুব সমাজের সভাপতি ও সমাজসেবক মো. শাহিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সম্মিলিত নাট্যকর্মী জোট নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান।
চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপক রোকসানা সামিয়ার প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাব্বির আহমেদ সেন্টু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মো. মুকবুল হোসেন বাবলু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক শ্রী কার্তিক ঘোষ, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সুমন খান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মোখলেছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মহানগর যুবদল নেতা কে এম মাজহারুল আলম যোশেফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কাজে বিদেশে থাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা মো. কামাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, খেলাধুলা মাদক থেকে দূরে রাখার একটি কার্যকর মাধ্যম। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে খেলাধুলার চর্চা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, অভিভাবক ও সামাজিকভাবে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা বলেন, দেশের একটি বড় অংশ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মূল্যে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় মাদকের বিস্তার সমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মোবাইল আসক্তিও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মোবাইলের অপব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রেখে তাদের হাতে বই ও ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দিতে হবে। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শেষে অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

































