বামে ইমরান ডানে নাজমুল দম্পতি
উন্নত ভবিষ্যতের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার তরুণ ইমরান। ভালো বেতনে চাকরির আশায় বিদেশে গিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, ভালো কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাঁকে একটি ‘সাপ্লাই’ প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইমরানের দাবি, গত আট মাসে মাত্র তিন মাস কাজ পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে দুই মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমানে আকামা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হচ্ছে না। ফলে খাদ্যসংকটসহ নানা সমস্যায় দিন কাটছে তাঁর।
ইমরান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর প্রাইমারি স্কুলের সামনের এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে।
ইমরানের অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে এবং আরও কয়েকজন যুবককে সৌদি আরবে পাঠান কাইতাখালী এলাকার নাজমুল (পিতা: আমানুল্লাহ)। বর্তমানে নাজমুল সোনাকান্দা এলাকায় স্ত্রীসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
সৌদি আরব থেকে ইমরান বলেন, “আমাদের একটি ভালো কোম্পানিতে কাজের কথা বলে সৌদি আরবে আনা হয়েছিল। কিন্তু এখানে আসার পর আমাদের একটি ‘সাপ্লাই’ প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেওয়া হয়। গত আট মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই বেকার বসে থাকতে হয়েছে। মাত্র তিন মাস কাজ করলেও দুই মাসের পাওনা টাকা এখনো পাইনি। আকামা দেওয়া হলেও বর্তমানে কোম্পানির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হচ্ছে না। আমরা চরম খাদ্যসংকট ও মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাজমুল ও তাঁর স্ত্রী মিলে এলাকায় একটি প্রতারণামূলক আদম ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। আকর্ষণীয় বেতন ও ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
ইমরানের মতো আরও কয়েকজন যুবক একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনরা। বিদেশে গিয়ে কাজ ও বেতন না পাওয়ায় পরিবারের কাছেও তাঁরা নিয়মিত অর্থ পাঠাতে পারছেন না। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, সৌদি আরবে আটকে থাকা অসহায় যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনা অথবা তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বৈধ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুলের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।


































