নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে রিভলবার হাতে একটি পুরোনো ছবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০৬ সালের ওই ছবিটির পেছনের ঘটনা এবং এটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিনিয়র ফটোসাংবাদিক মাহমুদ হাসান কচি। তার এই স্ট্যাটাসের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
“রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অব্যাহত নোংরামি-চক্রান্ত চলছেই” শিরোনামে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মাহমুদ হাসান কচি ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বরের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
তিনি স্ট্যাটাসে লিখেন, সেদিন তিনি মিশনপাড়া অগ্রণী সংসদের ভেতরে চা খাওয়ার সময় এক জুনিয়র ফটোসাংবাদিক কলিগের জরুরি ফোন পান। ওই কলিগ তাকে জানান যে, নারায়ণগঞ্জের এক ‘সন্ত্রাসী’ অস্ত্রসহ ঢাকার টিকাটুলী র্যাব অফিসে ধরা পড়েছে এবং দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে হবে। বাইক চালাতে না পারায় তিনি কচিকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে কোনো কিছু না ভেবেই পেশাগত প্রয়োজনে কচি তাকে নিয়ে প্রায় ২৫ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছান।
র্যাব কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর ভেতরের দৃশ্য দেখে অবাক হন উল্লেখ করে কচি লেখেন, সেখানে সবকিছু আগে থেকেই সাজানো ছিল। নিয়মমাফিক শুধু ভেতর থেকে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে এনে টেবিলে অস্ত্র ও গুলি রেখে ছবি তোলার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় জুনিয়র সহকর্মীটি রিয়াদের হাতে পিস্তল দিয়ে ছবি তোলার জন্য বসের নির্দেশ রয়েছে বলে জানান। কচি এর প্রতিবাদ করলেও জুনিয়র সহকর্মীটি নাছোড়বান্দা ছিলেন। উপায় না পেয়ে তিনি নিজেই ছবিটি তোলেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে জুনিয়র সহকর্মী মোবাইল ফোনে কল করে সালাম দিয়ে বললো এমপি সাহেব আমি স্বার্থক, অপরদিকে থেকে শুধু কথা হলো কালকেই জাতীয় ও স্থানীয় সব পত্রিকায় ছবিটি ছাপানো চাই লাগলে টাকা আরো দিব। এরপর ঐ ছোট ভাইকে দেখলাম সব পত্রিকার ফটো সাংবাদিক এবং কোন কোন অফিসে নাজরানা সহ ছবিটি পাঠাতে। তখন বুঝতে বাকী থাকলো না এটা যে রাজনৈতিক এবং বিশাল টাকার খেলা। সব নীরব দর্শকের মতোই তাকে দেখতে হলো। সবাই কে বিদায় করে ঐ ফটো সাংবাদিক তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলো কিন্তু তার পক্ষে সেটা নেয়া সম্ভব হলো না। ঐ দিন থেকে একটা সপ্তাহ সে অনুশোচনায় ভুগলো, এটা কি হলো।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তৎকালীন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। ঘটনার পর রিয়াদ চৌধুরীর পরিবার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন করে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে মাত্র চার দিনের মধ্যে তিনি মুক্তি পান, সংশ্লিষ্ট র্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই মাসের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণ মামলা থেকে খালাস পান।
মাহমুদ হাসান কচি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পার হলেও একটি কুচক্রী মহল পুরোনো সেই ছবিটি বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে অপরাধী ও অস্ত্রধারী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট না জেনে এভাবে কাউকে বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর জ্যেষ্ঠ এই ফটোসাংবাদিকের বিবৃতির মাধ্যমে ২০০৬ সালের ওই ঘটনার নেপথ্য কাহিনী উন্মোচিত হওয়ায় সচেতন মহলে এটি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সত্য যে চাপা থাকে না, এই ঘটনাই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


































