নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ‘নারায়ণগঞ্জ রয়েল চেস ক্লাব’ (এনআরসিসি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে স্থানীয় ওসমানী স্টেডিয়ামের হলরুমে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার পর্দা নামে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দৈনিক দেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানি।
নারায়ণগঞ্জ রয়েল চেস ক্লাবের সভাপতি খুরশিদ আলম মনিরের সভাপতিত্বে এবং দাবা সংগঠক নাজমুল হাসান রুমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী রোটারিয়ান দিদার খন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাব্বির আহমেদ সেন্টু এবং দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক ডি এম মাইনুদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম সানি বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন বলেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে সমানভাবে কাজ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য কার্ড সিস্টেম চালু হয়েছে এবং ১২৯ জন এই বরাদ্দের আওতায় এসেছেন।"
রয়েল চেস একাডেমির আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এই চমৎকার আয়োজন আমাকে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করতে চাইলে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও স্পন্সরের ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টা থাকবে।" এ সময় তিনি ওসমানী স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের অবহেলিত ও নোংরা পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দেন।
৬ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৮১ জন দাবাড়ু অংশ নেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন কুমিল্লার আমন্ত্রিত দাবাড়ু মোঃ রবিউল হোসেন। প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছেন ঢাকার সানোয়ার হোসেন উল্লাস।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন। দাবার মতো মেধাবৃত্তিক খেলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।


































