নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০৫ জানুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

যে কারণে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:৩৭, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

যে কারণে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। কিন্তু এই ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ৫জন প্রার্থী।

তারা হলেন,  বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, রিপাবলিক পাটির মনোনীত মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আলামিন।

যদিও নানা কারণে এই আসনি আলোচিত। তথাপি শষে পর্যন্ত এই ৫ প্রার্থী মধ্যে সবাই কি নির্বাচনে লড়বেন নাকি কেউ কেউ সটকে পড়বেন। এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনা। তবে অপেক্ষা করতে হবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

কারণ ওইদিন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ জানুয়ারি বিকাল ৫টায় জানা যাবে ভোটের মাঠে এই ৫জনই থাকছেন কি না। 

এদিকে জেলাজুড়ে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। কারণ ৫টি আসনের মধ্যে এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এবং আলোচিত তিন জন এখানে প্রার্থী হয়েছেন।

তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও রিপাবলিক পাটির মনোনীত মোহাম্মদ আলী। নানাভাবে রাজনৈতিক মাঠে তারা আলোচিত।

এই আসনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোহাম্মদ আলী  ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর কাছে মাত্র ২১০০ ভোটে হেরে যান শাহ আলম। ফলে ভোটের মাঠে তাদের তিনজনেরই একটা অবস্থান রয়েছে।

 নির্বাচনী এলাকার কয়েকজন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হয়তো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সরে দাঁড়াবেন। কারণ তিনি যেই সময়ে সংসদ সদস্য ছিলেন তখন  ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে ছিলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন।

এবার সিদ্ধিরগঞ্জকে কেটে সোনারগাঁয়ের সাথে যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন করা হয়েছে। যেহেতু গিয়াসউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা এবং ভোটারও সিদ্ধিরগঞ্জের। সেহেতু ফতুল্লায় হয়তো তিনি সুবিধা করতে পারবেন না। ফলে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেই নির্বাচন করতে পারেন।

আর মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ শাহ আলম শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে লড়াই হবে চতুর্থমূখী। তারা দুইজন বিএনপি ঘরোয়ানার লোক হলেও দুইজনেরই ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক রয়েছে ফতুল্লায়। তবে মোহাম্মদ আলীর অবস্থান শাহ আলমের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।  তবে মাঠে আলোচনা আছে, শেষ পর্যন্ত হয়তো তাদের দুইজনের একজন সমঝোতার ভিত্তিতে সরে দাঁড়াতে পারেন।

কারণ তারা দুইজনই একই অঞ্চলের। তাদের দুইজনের মধ্যে যেমন সহমর্মিতা রয়েছে তেমনটি ভালো সম্পর্ক বিদ্ধমান। তাই দুইজনের ভোট ব্যাংক কাজে লাগাতে নানাভাবে সেই সমঝোতা হতে পারে।  তখন ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা দ্বিমুখী হয়ে উঠতে পারে এই আসনে।

কারণ শাহ আলম অথবা মোহাম্মদ আলী যে-ই প্রার্থী হোক তার সাথেই মূলত লড়াই হবে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর। এমনটাই মনে করছেন এই আসনের রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
 

সম্পর্কিত বিষয়: