নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

২৪ মার্চ ২০২৬

নাসিক ২নং ওয়ার্ডে রাজুর অপকর্ম ভোটারদের মুখে মুখে

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:০৩:২৩, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

নাসিক ২নং ওয়ার্ডে রাজুর অপকর্ম ভোটারদের মুখে মুখে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী চাঁদাবাজ, ভূমিদস্য, আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে দলীয় সুবিধা পাওয়ার পাঁয়তা করছে। প্রকৃতপক্ষে রাজু থানা সেচ্ছাসেবকলীগের অনুমোদিত সাধারণ সম্পাদক নয় বলে জানা গেছে। যদি হয়ে থাকে তাহলে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ একাধিক মামলার আসামি রাজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কমপক্ষে ২০টির অধিক অভিযোগ হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে। আজগর হাজী ওয়াক্ফ এস্টেট এর জমি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া চিটাগাংরোডে রেন্ট এ কার স্ট্যান্ডে প্রভাব খাটিয়ে সভাপতির পদ দখল করে চাদাবাজি শুরু করে রাজু। বাদ দেয়নি ফুটপাতের চাঁদাবাজি। নানা অপকর্মের হোতা রাজুর বিরুদ্ধে ভুমিদস্যূতার অভিযোগও রয়েছে। তার নানা অপকর্ম এখন ২নং ওয়ার্ডের ভোটারদের মুখে মুখে। তারা বলছেন, রাজুকে ভোট দিলে এলাকায় ভুমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বেড়ে যাবে।


জানা গেছে, নাসিক ২নং ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচন করছেন আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু। হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি রাজু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি করে আসছে। মিজমিজি এলাকার একাধিক ভূক্তভোগী তার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দফতরে কমপক্ষে ২০ টির অধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন সময়। এসব অভিযোগের তদন্ত হলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কিছু অভিযোগকারীকে হুমকি ধমকি দিয়ে মিমাংসা করাতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 


নাসিক ২ নং ওয়ার্ডে নারায়ণগঞ্জ-আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান সমর্থক গোষ্ঠীর সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আবুল জানান, আমিনুল হক রাজু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের অনুমদিত সাধারণ সম্পাদক নয়। বহু বছর আগে তাকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটি অনুমোদন করেনি কেন্দ্র। অথচ সেই প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন না পেলেও রাজু নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দলীয় বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে। নাসিক নির্বাচনেও রাজু দলীয় সুবিধা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যেহেতু রাজু অনুমদিত সাধারণ সম্পাদক নয় তাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন রাজুকে দলীয় লোক হিসেবে সমর্থন করছেনা। তাই তিনি দলীয় লোকদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরণের কৃৎসা রাটাচ্ছে। 


নাসিক ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিছু সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের নিয়ে রাজু নির্বাচনি মাঠ গরম করলেও ভোটে তিনি জামানত হারাবেন। কারণ রাজু কাউন্সিলর হলে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বাড়বে তা ভাল করেই জানে ওয়ার্ডবাসী। যেকারণে তাকে সমর্থন দিচ্ছেনা শান্তিপ্রিয় মানুষ। তাছাড়া মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় আজগর হাজী ওয়াক্ফ এস্টেট এর জমি নিয়ে রাজু যে কান্ড করেছে তা সকলের জানা। ওয়াক্ফ জমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তিনি। ওয়াক্ফকৃত জমির অধিকারী কোন মসজিদের মোতওয়াল্লী না হয়েও রাজু ওয়াক্ফ জমি উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন করে সন্ত্রাসী কায়দায় গায়ের জোরে জমিতে সাইনবোর্ড লাগায়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার রাজুর লাগানো সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলা হয়। মিথ্যা অভিযোগ করে ওয়াক্ফ জমি দখল করে তা বিক্রির পর অর্থ ভাগবন্টন করার জন্য রাজুর অনুগত ৮ জনের মধ্যে একটি চুক্তিনামাও করা হয়। সেই চুক্তিনামার একটি কপি সংরক্ষিত রয়েছে। চুক্তিপত্রে ৯১ লাখ টাকা ভাগবন্টনের উল্লেখ রয়েছে। তার সেই মিশন সফল না হলেও হালছাড়েনি বলে জানায় স্থানীয়রা। 


এ বিষয়ে জানতে রাজুর কাছে গেলে তিনি নির্বাচনের ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।