নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

২৬ মে ২০২৪

প্রাথমিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

মরিয়ম খাতুন : 

প্রকাশিত:২১:৩৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রাথমিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

প্রাথমিক শিক্ষাই সকল শিক্ষার মূল ভিত্তি। এ শিক্ষায় ১৭ বছরের শিক্ষকতার জীবন আমার। এ ১৭ বছরে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করার অভিজ্ঞতা হয়। বর্তমান কর্মরত বিদ্যালয়ের নাম কুতুব আইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত। যা আমার অনেক প্রিয় ও ভালবাসার স্থান। এ বিদ্যালয়ে ১৩২৫জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। আমরা ১৮জন শিক্ষক কর্মরত আছি। দানবীর জনাব সাইজ উদ্দিন মাতবর এর ২৯ শতাংশ জমির উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এ বিদ্যালয়টি। 


প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখরিত থাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। এ যেন এক মনমাতানো সৌন্দর্য। ওদের ছুটোছুটি, দুষ্টুমি, হৈচৈ যেন রূপসী বাংলার অন্য একরূপ।

 

বিদ্যালয়ের সুসজ্জিত ভৌত কাঠামো, আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, ৩টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, সুসজ্জিত প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ, ১টি লাইব্রেরী, সুদৃশ্য শহিদ মিনার, শাপলা ভাস্কর্য, বাংলাদেশের ম্যাপসহ গ্লোব, বর্ণপাতার মডেল, সবুজ বাগান, নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন ওয়াশ ব্লক, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী, নাচ-গান আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, রচনা প্রতিযোগীতা, খেলাধুলার ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী. অভিভাবক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি. শিক্ষক অভিভাবক কমিটি. এলাকার জনগনের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যালয়ের পরিবেশকে করেছে আকর্ষণীয় ও শিশু বান্ধব।

 

এছাড়া প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী বরণ, শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্মদিন উদযাপন, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বার্ষিক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ভীর করে, কিন্ত শ্রেণিকক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ভর্তি করা সম্ভব হয়না।

 

অনেকের অভিযোগ বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে, ভর্তি কমে যাচ্ছে। আমরা যদি কোয়ালিটি ধরে রাখি তবে শিক্ষার্থীরা অন্যত্র চলে যাবেনা, এজন্য সকল শিক্ষকদের আন্তরিকতা বজায় রাখতে হবে।  


শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ ও শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য আমার নিচের কাজগুলো করতে পারি:


* সুসজ্জিত বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা ।

* নিরাপদ খাবার পানি ও সেনিটেশন ব্যবস্থা।

* পর্যাপ্ত আলো বাতাসসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ।

* ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান। 

* নিয়মিত ফলপ্রসু হোম ভিজিট, মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করা। 

* ফোন করে সকল শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা। 

* বিভিন্ন জাতীয় দিবস সমূহ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন।

উপরোক্ত কার্যসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান উন্নত হবে ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে। 

কিন্ত প্রকৃতপক্ষে উপরোক্ত কাজসমূহ বাস্তবায়নে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখিন হতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি নীচের বিষয়গুলি বিবেচনা করেন তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়ন সহজ হবে। 

* বলাহয় প্রাথমিক শিক্ষাই সকল শিক্ষার মূলভিত্তি এবং শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্ত শিক্ষকদের যদি আরোও সম্মানজনক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় তবে তাঁরা তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে। 

* দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের জন্য বেশী শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে করণিক নিয়োগ দেওয়া। 

* শিক্ষকদেরকে শিক্ষা বহির্ভূত অন্য কাজে ব্যস্ত না রাখা।

* উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত রাখা।


 লেখক : প্রধান শিক্ষক, কুতুব আইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ।
 

সম্পর্কিত বিষয়: