নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নয় দিন পর ফতুল্লা মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় এ অভিযোগ করা হয়।
ছাত্রের অভিভাবকের অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ জুলাই রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার উম্মুল কুরা নূরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার হেফজখানায় আবাসিক ওই ছাত্রকে ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসার শিক্ষক আহমাদ (১৮) বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রের অভিভাবক ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে ওই রাতেই ছাত্রের খালাতো ভাই মৃদুল (২৮) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। পরে এসআই মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক আহমাদকে আটক করে। তবে অভিযোগকারী মৃদুল আপস-মীমাংসার কথা বলে পরে শিক্ষককে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষক আহমাদের বাবা ও মাদ্রাসার মোহতামিম সোলাইমান বিন হাফিজ পাল্টা অভিযোগে দাবি করেন, ঘটনার ছয় দিন পর ৬ আগস্ট মৃদুলের বাসায় উভয় পক্ষ আপস-মীমাংসায় বসে। সেখানে মৃদুল ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মৃদুল ও তার লোকজন আহমাদকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে মৃদুলের দাবি, ছাত্রের অভিভাবক তার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আপস-মীমাংসার জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও শিক্ষক ও তার অভিভাবক এতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রের মা থানায় মামলা করার আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বলাৎকারের ঘটনায় ছাত্রের মা ও তার খালাতো ভাই ফোন করার পর পুলিশ শিক্ষককে আটক করে। পরে তারাই আপস-মীমাংসার কথা বলে শিক্ষককে নিজেদের জিম্মায় রেখে দেন। বিষয়টি নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































