নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬

রেলভূমি দখলের অপচেষ্টা: নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্য উৎখাতের রাজনীতি : মোস্তফা করিম

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:২৪, ৮ আগস্ট ২০২৬

রেলভূমি দখলের অপচেষ্টা: নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্য উৎখাতের রাজনীতি : মোস্তফা করিম

নারায়ণগঞ্জে যেখানে রেলের জমি তুলনামূলক বেশি, সেখানেই একটি চক্র নানা অজুহাতে রেলকেই সংকুচিত বা উৎখাত করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ এখন নাগরিক মহলে জোরালোভাবে উঠছে। অথচ গোটা ভারতবর্ষের বড় বড় শহরেও রেলভূমি দখলের যুক্তিতে রেললাইন বা স্টেশন সরিয়ে দেওয়ার নজির প্রায় নেই; বরং সেখানে রেলকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। তাই নারায়ণগঞ্জে রেলকে দুর্বল করার যে কোনো উদ্যোগকে অনেকেই গণপরিবহনবিরোধী ও নাগরিক স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন চালু হয় ৪ জানুয়ারি ১৮৮৫ সালে। এটি ছিল তৎকালীন Dacca State Railway-এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল, যার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের পাট নারায়ণগঞ্জ বন্দরে এসে নদীপথে কলকাতায় যেত। অর্থাৎ এই রেলপথ শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়; এটি নারায়ণগঞ্জের শিল্প, বন্দর, ব্যবসা ও নগর বিকাশের ভিত্তি।

 

গবেষণামূলক বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, কেন্দ্রীয় স্টেশন, রেলইয়ার্ড, গুদাম, কোয়ার্টার ও সংলগ্ন অবকাঠামো মিলিয়ে প্রায় ৫০–৬০ একর বা তার বেশি রেলভূমি ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ গণপরিবহনের জন্য কৌশলগত সম্পদ।

 

বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন হলো—রেলভূমি উদ্ধার করা হবে, নাকি রেলকেই সরিয়ে দেওয়া হবে? বিশ্বের উন্নত নগরগুলোতে যানজট কমাতে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জেও প্রয়োজন ডাবল লাইন, আধুনিক কমিউটার সার্ভিস, স্টেশন উন্নয়ন ও রেলকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা; রেল সংকোচন নয়।

 

নাগরিকদের দাবি স্পষ্ট: অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হোক, রেল নয়। ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিকায়ন হোক। নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ গণপরিবহন রেলের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

সম্পর্কিত বিষয়: