নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

০৮ আগস্ট ২০২৬

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন ধ্বংসের পায়তারা রুখতে হবে: মোস্তফা করিম

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:৩৫, ৭ আগস্ট ২০২৬

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন ধ্বংসের পায়তারা রুখতে হবে: মোস্তফা করিম

ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেলপথকে সীমিত করার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জে। বিশেষ করে “চাষাঢ়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রেল চলাচল সীমাবদ্ধ রাখার” ধারণা জনমনে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন ও রেলপন্থী মহলের দাবি—এটি শুধু একটি পরিবহনসংক্রান্ত প্রস্তাব নয়; বরং প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জাতীয় সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন।

 

নাগরিক মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের প্রস্তাবের আড়ালে অন্য কোনো গোপন স্বার্থ কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বহুতল ভবন গড়ে ওঠা এবং রেল করিডোর সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে রেল চলাচল সীমিত করার যে কোনো উদ্যোগ অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও অবৈধ দখলদারদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে—এমন উদ্বেগকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে যানজট ও পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় রেলভিত্তিক গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পনগরীতে রেলপথ সংকুচিত করার চিন্তা সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই রেলপথের ওপর নির্ভরশীল। রেলসেবা দুর্বল হলে সড়কের ওপর চাপ আরও বাড়বে, যানজট তীব্র হবে এবং পরিবেশগত ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে।

 

নাগরিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, রেলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে জনস্বার্থের ভিত্তিতে, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সুবিধার ভিত্তিতে নয়। তারা স্পষ্টভাবে বলছে—রেলপথ সংকুচিত নয়, বরং আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ, নিরাপদ, ঘনঘন ও দ্বৈত লাইনের রেল যোগাযোগ চালু করা এখন সময়ের দাবি। এতে একদিকে যাত্রী ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর মধ্যে টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

 

রেলওয়ের জমি রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা অবৈধভাবে রেলওয়ের জমি দখল করেছে বা স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। উন্নয়নের নামে অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

 

নাগরিক মহল আরও বলছে, নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন কেবল একটি স্টেশন নয়; এটি শহরের ইতিহাস, বাণিজ্য ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতীতে বিভিন্ন সময় রেল অবকাঠামো দুর্বল করার নানা উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। তাই যে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের আগে স্বচ্ছ জনশুনানি, স্বাধীন কারিগরি সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সুস্পষ্ট মতামত প্রকাশ করা আবশ্যক।

 

সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, গোপন সমঝোতা বা দখলদার স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে জনস্বার্থ, আইনের শাসন এবং টেকসই যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তিতে—কোনো দখলদার গোষ্ঠীর সুবিধার ভিত্তিতে নয়।

 

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “রেল বাঁচলে নগর বাঁচবে, রেল ধ্বংস হলে ভবিষ্যৎ ধ্বংস হবে।” তাই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন ও ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেলপথ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়: