নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এক দম্পতিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ইটের দেয়াল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাসিক ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সোলাইমান পলাশ বাহিনীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি দক্ষিণপাড়ায় কাদির ফকিরের বাড়িস্থ এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০/২৫ অজ্ঞাতনাম করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, নাসিক ২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. সোলাইমান পলাশ (৪২), মো. ফারুক (৫০), মো. গিয়াস উদ্দিন ( ৬৫), রনি (৪৫), মো. রকি সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়ায় কাদির ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এসএস-১৮৯৬ ও আরএস-২৫৫৩ নম্বর দাগে ৩ শতাংশ ৯০ পয়েন্ট জমির মালিক মুক্তার হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মুক্তা। তিনি ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক হয়ে সরকারি খাজনা পরিশোধসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে করে আসছে।
মুক্তার হোসেন আরো বলেন, নাসিক ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান পলাশ বাহিনী সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসনের প্রভাব বিস্তার করে জমি দখল সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এলাকায়। পরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তার স্ত্রীর কাছ থেকে ওই জমি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলো এবং জমিটি জোরপূর্বক দখলের হুমকি দিচ্ছিেেলা।
ভুক্তভোগী আরো বলেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র,লাঠি, এসএস পাইপ, লোহার রড, শাবল, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা জমির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশের ইটের দেয়াল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
হামলা ও ভাঙচুরের সময় মুক্তার হোসেনের আত্মীয় আলী হোসেন (৩৭) স্থানীয় লোকজন নিয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা মারধর চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় মুক্তার হোসেন ও তার স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
এবিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালেকুজ্জামান বলেন, এই হামলা ও জমির দেওয়াল ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































