সংসারের অভাব-অনটন দূর হবে, বড় ছেলে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের হাল ধরবে—এমন স্বপ্ন নিয়ে নিজের জমি বিক্রি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন স্বামীহারা ফাতেমা আক্তার (৪৫)। তবে সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে হতাশায়। প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর বড় ছেলে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি মায়ের জমানো ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ছেলে ফাহিম মোস্তাকিম আলভী (২৬) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের শুকুরদী (বড়বাড়ী) এলাকার। এ ঘটনায় ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে তার বড় ছেলে ফাহিম মোস্তাকিম আলভীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যরা হলেন—আলভীর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২৪), ফাতেমার দেবর ফয়সাল আহমেদ সুমন (৩৫) এবং দেবরের স্ত্রী আরজুদা (২৫)।
ফাতেমা আক্তারের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে এবং একটি এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে মোট ৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করে বড় ছেলে আলভীকে সৌদি আরবে পাঠান। বিদেশে যাওয়ার পর থেকে আলভী তার সঙ্গে যোগাযোগ ও ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় বছর ধরে ছেলে কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় ছোট ছেলে ফারদিনকে নিয়ে অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে আলভী অবৈধ হয়ে পড়লে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফের অর্থের প্রয়োজন হয়। সন্তানের বিপদের কথা চিন্তা করে ফাতেমা আক্তার তার চাচাতো ভাই হাসানের সহযোগিতায় এনজিও থেকে ঋণ নেন এবং হাসানের কাছ থেকেও ৭০ হাজার টাকা ধার করেন। পরে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেড় মাস আগে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তিনি। এতে তার ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা তৈরি হয়।
ফাতেমার লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে চাচাতো ভাই হাসান পাওনা টাকা চাইতে তাদের বাড়িতে গেলে আলভী ও তার সহযোগীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা লোহার রড দিয়ে হাসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় ছোট ছেলে ফারদিনকে সঙ্গে নিয়ে ভাই হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ফাতেমা আক্তারও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, আলভী তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে আহত করেন। পরে ঘরের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারে রাখা তার ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ফাতেমা আক্তার সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফাতেমা আক্তার। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


































