নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

২১ জুলাই ২০২৪

কাঁচপুর থেকে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে টাকা আদায়

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সানোয়ার ও দুই সোর্সের কান্ডে তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:৪৮, ৬ মার্চ ২০২৪

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সানোয়ার ও দুই সোর্সের কান্ডে তোলপাড়

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে রুস্তম নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সানোয়ারসহ পুলিশের দুই সোর্স ইকবাল ও শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

মাদক ব্যবসায়ী রুস্তম সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলী পুল এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রূপগঞ্জের চনপাড়ায় থাকেন। এদিকে এ ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

নাম না প্রকাশের একাধিক সূত্র জানায় এরআগেও সানোয়ার ওই দুই সোর্সকে নিয়ে গঙ্গাপুর এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ী নুরা ও মাদক ব্যবসায়ী রুস্তমের ভাই জাহাঙ্গীরকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় । 

জানাগেছে, গত ৪ মার্চ দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সানোয়ার কিলো ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী রুস্তমকে তিনি ও তার দুই সোর্স ইকবাল ও শাহাবুদ্দিন সোনারগাঁও থানার কাঁচপুরে একটি মার্কেট থেকে ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে আসে। এসময় রুস্তমের ছেলেও তার সাথে ছিলো। 

পরে তাকে মাদকের মামলায় চালান দেয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে দেন দরবার। পরে ৮০ হাজার টাকায় বিষয়টি মধ্যস্থা হলে রুস্তমের ছোট বউ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। 

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃস্টি হয়। সাধারণ লোকজন বলছেন পুলিশ হচ্ছে রক্ষক জনগনের আস্থার প্রতিক শেষ ভরসা সেখানে যদি সেই পুলিশই এই ভুমিকায় অবতীর্ণ হয় তাহলে এর পরিণতি কি হবে। 

এসব কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও পুলিশ সোর্সদের অনৈতিক কর্মকান্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পুলিশ। অপরাধি ধরে আইনের কাঠগড়ায় দাড় না করিয়ে ফায়দা লুটে ছেড়ে দেয়ায় এ সমাজে বাড়ছে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ। অপরাধীরাও অপরাধ সংগঠিত করে নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যাচ্ছে। 

তাদের দাবি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিরেপক্ষভাবে তদন্ত করলে ওই পুলিশ ও তাদের সোর্সদের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসবে। 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে নাম না প্রকাশের শর্তে একটি সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিমরাইল থেকে এসআই সানোয়ার ও পুলিশের ওই দুই সোর্স ইকবাল ও শাহাবুদ্দিন গঙ্গাপুরের গাঁজা ব্যবসায়ী নুরা ওরফে নুরু কে আটক করে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। 

এরপর ৩ মার্চ মাদক ব্যবসায়ী রুস্তমের ভাইকে আটক করে তার কাছ থেকেও ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানান জাহাঙ্গির নিজেই।  

অভিযোগ রয়েছে, সোর্সরা কোনও বাহিনীর স্বীকৃতি কোনও সদস্য না হয়েও অপরাধী শনাক্ত ও মামলা তদন্তে পুলিশকে যতটা সহযোগিতা করেন সোর্সরা তারও বেশি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে থাকেন।

আবার এলাকার দাগী আসামি, মাদকব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যেই কেউ-কেউ সোর্স হয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। 

পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকায় সোর্সরা মাদকস্পটসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে তা সহজেই সংগঠিত করে পার পেয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে চলাফেরার কারণে সাধারণ মানুষও তাদের কিছু বলতে সাহস পায় না। তারা সোর্সের নামে আতঙ্কে থাকেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে অপর একটি সূত্র জানায়, সোর্স ইকবাল শিমরাইল এলাকার প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন সকালে টাকা আনে এবং পুলিশের অভিযান আসলে আগেই তাদের সতর্ক করে দেয়। এতে পুলিশের অভিযান ভেস্তে যায়।

এবিষয়ে জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সানোয়ার বলেন, এর কোনো তথ্য প্রমান নেই। এসব অভিযোগ সত্য নয়। 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) এস এম জহিরুল ইসলাম বিপিএম বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।