সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মোঃ সোহাগ (৩৪)কে দশ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। এসময় তার দুই সহযোগি আব্দুল জলিল (২৫) ও মোঃ পারভেজ (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মাদকদ্রব্য। মঙ্গলবার ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিন কদমতলী এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, সোহাগকে গত বছরের মার্চে আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা যায়। সেই সময় উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
সংঘর্ষে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সোহাগ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন,“ভোরে কদমতলীর একটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে দুই সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন।
কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। তবে আটক তিনজনের দেহ তল্লাশি করে ১২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ওজন প্রায় ১২ গ্রাম, আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “সোহাগের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জলিল ও পারভেজের বিরুদ্ধেও মাদক ও অন্যান্য অপরাধে মামলা বিচারাধীন। অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সোহাগ কিছুই স্বীকার করেননি। তবে আমরা ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতে রিমান্ড চাইবো। পরে অস্ত্র উদ্ধার হলে তার নামে অস্ত্র আইনে মামলা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ আদমজী ইপিজেডে ইউনিভার্সেল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের সময় সোহাগকে প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে, কিন্তু সোহাগ পালিয়ে যান এবং প্রায় ১০ মাস ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলেন।


































