নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

২০ অক্টোবর ২০২১

যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসিকতা আমার আছে : আইভী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৫৮, ১২ অক্টোবর ২০২১

যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসিকতা আমার আছে : আইভী

নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, সামনে নির্বাচন থাকায় শহরে অযথা যানজটসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সাম্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। অনেক আগে থেকে সকল ধর্মের মানুষ এখানে একসাথে বসবাস করছে। কিন্তু ইদানিং কে বা কারা পূজামন্ডপে জোর করে আমার বিরুদ্ধে ব্যানার পাঠিয়েছে। যে ব্যানারে লেখা সাম্প্রদায়িক আইভী। অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী জননেত্রী শেখ হাসিনা, তার মনোনীত একজন প্রার্থী আমি মেয়র, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। আমারই দলের একটি চক্র কিভাবে প্রতিটি পূজামন্ডপে সাম্প্রদায়িক আইভী বলে একটি ব্যানারসহ ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। 


 
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকালে শহরের দুই নং রেলগেইটস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

 

জেলা শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, জেলা শ্রমিক লীগ নেতা মাইনুদ্দিন আহমেদ বাবুল, হুমায়ুন কবির, আখাতারুজ্জামান, ফিরোজ কায়সার আলম প্রমুখ।
 
 
মেয়র আইভী আরো বলেন, বিভিন্ন জায়গা জঙ্গী আস্তানার নামে নারায়ণগঞ্জকে জঙ্গী খেতাব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কে করছে? তারা কিন্তু আওয়ামীলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তি, স্বার্থান্বেষী লোক। এমন নেতা আছে যার কোনো ব্যবসা নাই অথচ তার কোটি কোটি টাকা আয়। এ শহরে তাদের টাকার কোনো অভাব নাই, টাকা দিয়ে তারা সবকিছু করতে পারে। তাদের কাছ থেকে যেন আমরা সাবধান থাকি। আর আমি আপনাদেরই বোন যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর মতো সাহসিকতা আমার আছে। 


তিনি বলেন, আমার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা শ্রমিকলীগের নেতা ছিলেন। আমি সেই শ্রমিক লীগের সন্তান। আমি সবসময় দেখেছি, আমার বাবা সবসময় সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনের পাশে ছিলেন। কিন্তু আজকে আমরা দেখছি সবখানেই দ্বিধা-বিভক্তি করে ফেলছে। যেভাবে একটি শ্রমিক সংগঠনকে দ্বিধা-বিভক্তি করলো এটা আমাদের মোটেও কাম্য ছিল না। জেলা শ্রমিক লীগ এবং মহানগর শ্রমিক লীগে সবসময় নিরপেক্ষভাবে সম্মেলনগুলো করা হতো। কিন্তু এবার জানতে পারলাম একটি পক্ষ কেন্দ্র থেকে যে দ্বিধা-বিভক্তির সূচনা করলেন তা আমি সঠিকভাবে দেখছি না। আপনাদের একটি অংশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কেন্দ্রে যেন সেখানে সু-নজর দেয়। 


আইভী বলেন, একক ব্যক্তির কথায় নারায়ণগঞ্জে কমিটিগুলো দিয়ে প্রত্যেকের সাহস বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি অবশ্যই আপনারা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রেখে আপনাদের কর্মকান্ড করবেন। কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রাখবেন যেন অবশ্যই আপনাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

মেয়র আইভী বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা যেকোনো ধরনের সংঘাতে লিপ্ত হতে চাচ্ছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে শহরকে অস্থির করতে চাচ্ছে। সে বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। হুটহাট করে কেউ কিছু করবেন না। চিন্তাভাবনা করে করবেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী। ভয় অবশ্যই পাই নাই। ২০০৩ সালে নির্বাচন করেছি যখন সুবিধাবাধীরা এ শহরে ছিল না। সেই দুঃসময়ে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে পাশ করেছি। ২০১১ সালে কি হয়েছে দেখেছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও অনেক কিছু হয়েছে। তবুও নেত্রীর স্নেহে মনোনীত হয়ে আমি মেয়র হয়েছি। ওনি যাকে ভালো মনে করেন তাকেই মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু এইভাবে একজন নারীকে যখন যা খুশি বলে হেনস্থা করা। নারায়ণগঞ্জের উৎসবমুখর পরিবেশে কালো ছায়া তৈরী করা, এই ধরনের অশুভ সংকেত কারা দিচ্ছে? তারা কি একবারও চিন্তুা করে দেখেছে, নারায়ণগঞ্জে আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে জাতীয় ভাবে কোন দুর্যোগ আনছে কিনা?


 
মেয়র আইভী অনুরোধ করে বলেন, দয়া করে আমার নামে কোন স্লোগান দিবেন না, স্লোগান দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। যখন অন্যের নামে স্লোগান দিবেন, এগুলো আরো খারাপ দেখায়। আপনারা যেমন শেখ হাসিনার কর্মী ঠিক আমিও একজন শেখ হাসিনার কর্মী। এখানে নেতা বলে কেউ নেই। নেতা আমাদের একজনই, নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা। 


সব মিলিয়ে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাচ্ছি, আপনারা ধৈর্য্য ধরবেন। যেভাবে রাজপথে ছিলেন ঠিক সেভাবেই রাজপথে থাকবেন। যারা দলের দুঃসময়ে হাল ধরে, কিন্তু পরবর্তীতে ওই সুবিধাবাধীরা এসে হালধরা ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে। সুতরাং ঘাবড়ানোর কিছু নাই, ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনারাও শেখ মুজিব বলবেন, জয় বাংলা বলবেন, শেখ হাসিনা বলবেন। তারাও বলবে। কিন্তু রাজপথে যে সৈনিক টিকে থাকতে পারে সেই শেষ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মূল্যায়িত হবেন।

 

আইভী বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষেই যেন আপনাদের তৎপরতা না থাকে, সারাবছর এ তৎপরতা ধরে রাখবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিম্ন আয়ের মানুষের  জন্যে অনেক প্রকল্প নিচ্ছে। এই কোভিড মহামারীতে গার্মেন্টস সেক্টরের মানুষদের উনি অনেক বেশি প্রণোদনা দিয়েছেন। যাতে কষ্ট না হয়। বিশেষ করে উনি নারী শ্রমিকদের প্রতি খুবই বেশি সহনশীল। তাদের জন্যে উনি আজকে মহিলা শ্রমিকলীগ গঠন করেছেন। এভাবেই উনি নারীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব গড়ে তুলছেন। উনি কৃষকদের জন্য কাজ করছে। বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেছেন। যে কাজগুলো তুলে ধরার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের রয়েছে। আমাদের মধ্যে বিভেদ হানাহানি না করে আমরা সবাই যেন এ কথাগুলো বলি।

সম্পর্কিত বিষয়: