নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

২৬ জুন ২০২৬

ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর মেগা প্রকল্প, সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে এলিভেটেড অংশ!

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২৩:১৯, ২৫ জুন ২০২৬

ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর মেগা প্রকল্প, সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে এলিভেটেড অংশ!

অবশেষে শেষ হতে চলেছে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প ‘মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ’ প্রকল্পের কাজ। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এর ফলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ ও গতিশীল হবে, তেমনি অবসান ঘটবে দীর্ঘদিনের তীব্র যানজটের।

​যদিও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের (২০২৬) জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তা কিছুটা বিলম্বিত হয়। তবে সুখবর হচ্ছে, পুরো প্রকল্প ডিসেম্বরে শেষ হলেও এর এলিভেটেড (দোতলা) অংশটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও সময়সীমা

​প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন:

​"দোতলার কাজ পুরোপুরি শেষ। বর্তমানে বিটুমিনের কাজ চলছে যা আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপর জোড়া বা জয়েন্টিংয়ের কাজের জন্য আরও মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এলিভেটেড অংশটি চালু এবং ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে।"

এক নজরে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রকল্প

​১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পে যোগাযোগের এক অভূতপূর্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে:

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (দোতলা সড়ক): পঞ্চবটি থেকে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পর্যন্ত ২.৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি র‍্যাম্পসহ ৯.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩.৫ কিমি সড়ক কাশিপুর পর্যন্ত এবং ২.৭৬ কিমি সড়ক নিচু ভূমির ওপর দিয়ে যাবে।

অ্যাটগ্রেড (নিচের) সড়ক: ৭ কিলোমিটার সড়ক ২ লেনে এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩.৭৫ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

যানজট নিরসন সড়ক: পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লা ও চাষাঢ়ার দিকে ৩১০ মিটার করে ৬ লেনের সড়ক এবং মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

অন্যান্য সুবিধা: চর সৈয়দপুরে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পয়েন্টে একটি গোলচত্বর থাকবে। এছাড়া নিচে ও ওপরে ২টি করে মোট ৪টি টোল প্লাজা এবং যানবাহনের ওজন মাপার জন্য ৬টি ওজন স্টেশন থাকবে। উল্লেখ্য, নিচতলা দিয়ে যানবাহন চলাচল ফ্রি হলেও দোতলা বা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল দিতে হবে।

অর্থনীতি ও যোগাযোগে সুবাতাস

​এই রুটটি চালু হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলোকে আর ঢাকার যানজটের ভেতর দিয়ে যেতে হবে না; তারা সরাসরি এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে।

​তাছাড়া, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্প এলাকায় প্রায় ৭ শতাধিক এবং বিসিক থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত আরও ৩ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কর্মরত। পাশাপাশি মুক্তারপুরে রয়েছে ৫টি বড় সিমেন্ট কারখানা ও ৬টি হিমাগার। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের যাতায়াত সহজ করতে এই সড়ক যোগসূত্র হিসেবে কাজ করবে।

​যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নয়ন প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, "যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি মানেই সব ক্ষেত্রের উন্নতি। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের মাধ্যমে দুই জেলার যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।" তবে ব্যবসার নতুন প্রসারের চেয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার গতিশীলতা ও যানজট মুক্তির ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

​প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা এবং কাজ শেষের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে সেতু কর্তৃপক্ষ সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন এবং সর্বশেষ তা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়: