নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল রায়ের মাধ্যমে তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অধ্যাপক রেজাউল করিমের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার খবরে সোনারগাঁও জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই 'আলহামদুলিল্লাহ' স্ট্যাটাসে ভরে ওঠে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও গ্রুপ। অনেকেই এটিকে সোনারগাঁওয়ের রাজনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
এর আগে উপজেলা বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
তবে যাচাই-বাছাই পর্বে আয়কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য পরিপূর্ণ নাথাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি আপিল করলে মঙ্গলবার সেই আপিলে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পান।
এদিকে এই রায়ের পর সোনারগাঁওয়ের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে দলের নিবেদিত অনেক কর্মী হতাশ হয়ে পড়ছিলেন।
বৈদ্দ্যের বাজার ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী গোলাম হায়দার রনি বলেন, "আমরা বিএনপির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকায় যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতা মজিবুর আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিত, বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করত। অথচ এখন সেই আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এলাকায় মিটিং করছে-এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।"
আরেক বিএনপি কর্মী মনির বলেন, "আমরা দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিয়েছি। অথচ এখন আওয়ামী লীগের মেম্বারদের নিয়ে মিটিং করা হচ্ছে। এতে তৃণমূলের কর্মীদের মনে ক্ষোভ জমেছে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, অধ্যাপক রেজাউল করিমের প্রার্থীতা বৈধ হওয়ায় আবারও মাঠে প্রাণ ফিরে এসেছে। তারা বলছেন, "এবার খেলা হবে।" ইতোমধ্যে রেজাউল করিম শিবিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে


































