নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে একটি কেন্দ্রে ব্যালট খোলা নিয়ে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:০১:৪১, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে একটি কেন্দ্রে ব্যালট খোলা নিয়ে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ভোটের আগের রাতে একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার খোলার অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যালট পেপার খোলা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।


বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধনকুন্ডা পপুলার হাইস্কুলের ভোটকেন্দ্র-২–এ এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 

এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, ওই ভিডিওতে কেন্দ্রের ভোটকক্ষের মেঝেতে কয়েকটি বাক্সে ব্যালট বই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

 ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূইয়ার বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার বশিরুল হক ভূইয়া পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ও ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল। এ সময় কেন্দ্রের ভেতরে কোনো বহিরাগত ছিল না এবং কোনো দলীয় আলোচনা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
 

তিনি বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভোটার তালিকার সঙ্গে ব্যালট পেপার মিলিয়ে দেখা হচ্ছিল এবং বিষয়টি তিনি নিজে উপস্থিত থেকে যাচাই করেছেন।
 

প্রিজাইডিং অফিসারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিধি মেনেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 

কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু কর্মী বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নন। একই সঙ্গে মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার পুরো ঘটনাকে ‘গুজব’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।


রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, ভেতরে ব্যালটে সিল দেওয়া হচ্ছে, এমন একটা রিউমার (গুজব) থেকে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হন কেন্দ্রের সামনে। তারা কেউ কেউ ঢুকেও পড়েন। কিন্তু বিষয়টা তেমন নয়। নরমাল প্রসিডিউর (স্বাভাবিক প্রক্রিয়া) অনুযায়ী তিনি ব্যালট পেপারগুলো বিভিন্ন কক্ষের জন্য সংখ্যা অনুযায়ী আলাদা করছিলেন।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে ও ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।

সম্পর্কিত বিষয়: