সকল জল্পনা-কল্পনা অবসান শেষে শুরু হয়েছে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরামহীন ভাবে ভোট গ্রহণ চলবে । সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভোটারদের সরব উপস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় পরিণত হয় দীর্ঘ সারিতে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের হাজী শামসুদ্দিন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের দিন যেন কোনো ঝামেলা না হয়, তাই সকাল সকাল চলে এসেছি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই।
সোনারগাঁয়ের মারব্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের এমন চিত্র দেখা যায়।
মারব্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার আবদুল করিম বলেন, আগের অনেক নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে আশা করছি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব।
একই কেন্দ্রের শিক্ষার্থী ভোটার আরিফ হোসেন বলেন, আমি একজন ছাত্র। নাগরিক দায়িত্ব পালনের জন্য আগেভাগেই ভোট দিতে এসেছি। ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার, তাই কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেব।
ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নারী ভোটার রাশিদা বেগম বলেন, ভোট দেওয়া আমার নাগরিক অধিকার। পরিবারসহ সকালে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসেছি যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারি। দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহে দাঁড়িয়ে আছি।এদিকে প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছেন।
এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোন আসনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন, নারী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ৬০২টি ভেন্যুতে ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আচরণবিধি তদারকিতে ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।


































