সিদ্ধিরগঞ্জের তিন অন্ধ ব্যক্তি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভর্তি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকার হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তারা ভোট দিতে আসেন।
এরা হলেন-মধ্যবয়সী মো. জুয়েল, মনির হোসেন ও মো. জসিম। এরা তিনজনই অন্ধ। তাদের মধ্যে জসিম জন্মান্ধ। অন্য দু’জন শিশু বয়সেই অসুস্থতাজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। জেলায় জেলায় ঘুরে হকারি করে বেড়ান তারা।
শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এ তিনজন একসাথে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। ভোটও দিয়েছেন। বলছেন, রাষ্ট্রের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতেই তারা ভোট দিতে এসেছেন। কোনো প্রকার ‘ঝুট-ঝামেলা’ ছাড়াই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন তারা। জেনে-বুঝেই গণভোটও দিয়েছেন বলে জানান। তাদের সহযোগিতা করেছেন ভোট গ্রহণে থাকা কর্মকর্তারা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে থেকে বের হন এ তিন অন্ধ ব্যক্তি। মনির ও জুয়েল এ কেন্দ্রটিতে ভোট দিয়েছেন। জসিম ভোট দিয়েছেন ফতুল্লার মাহমুদপুরের একটি কেন্দ্রে।
পরিবার নিয়ে তারা ভাড়া থাকেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও মানিকনগর এলাকায়। কিন্তু ভোটার নারায়ণগঞ্জের। ভোট দিতে আসতে তাদের দুইশ’ টাকা খরচও হয়েছে বলে জানান। তবে এ খরচ নিয়ে তাদের কোনো আক্ষেপ নেই। বরং আগামী সরকারের কাছে কিছু দাবির কথাও জানান সুবিধাবঞ্চিত এ ব্যক্তিরা।
মনির হোসেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় আজকের ভোটটা অন্য রকম। দেশের নাগরিক হিসেবে একটা ভোট দিতে আমরাও চাই। তাতে আমাদের কাছে অন্য রকম একটা আনন্দ ফিল হয়।
রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ভাড়াবাসায় থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে এসে অনেকের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হলো। ঈদের যেমন একটা আমেজ-আনন্দ, সেইটা উপভোগ করলাম।


































