নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

৩০ আগস্ট ২০২৬

নীরব আসর

গাজী খায়রুজ্জামান:

প্রকাশিত:২০:২৮, ২৯ আগস্ট ২০২৬

নীরব আসর

এক উঠোন ছিল—

যার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল প্রাচীন এক বটবৃক্ষ;

গোধূলি নামলেই তার ডালে ডালে পাখিদের কলরব,

জোছনার আলোয় জমত কতশত গল্পের আসর।

 

আজ সেখানে কুয়াশা নামে,

সন্ধ্যা নামে—জোছনা আসে না;

গল্পের পাখিরা ডাল ছেড়ে

উড়ে গেছে অচিন দেশে,

চেনা মুখের সেই মেলাটিও

হারিয়ে গেছে অচেনা দূর ঠিকানায়।

 

অভিমানের বিষলতায়

লতিয়ে লতিয়ে ঢেকেছে বৃক্ষের বুক,

অহংকারের কুঠার

কেটে নিয়েছে তার ছায়া।

ভুল বোঝাবুঝির ঘন কুয়াশায়

চেনা পথও আজ অচেনা—

একই আকাশ মাথার উপর,

তবু কেউ কারও ঠিকানা নয়।

 

কবিতার বাঁশি নীরব আজ,

ছন্দ হারিয়েছে মেঘের আড়ালে;

দ্বন্দ্ব যেন কালবৈশাখীর মেঘ—

গুমরে বসে আছে সেই বৃক্ষছায়ায়।

 

ভোরের পাখিরা রোজগারে যায়,

সন্ধ্যায় ফেরে ক্লান্ত ডানায়;

হিসাবের খাতায় একেকটি দিন ফুরোয় ঠিকh,

তবু বুকের ভেতর জমে থাকে

অদৃশ্য এক ভার—

মন খোঁজে সেই পুরোনো আসর,

খোঁজে হারিয়ে যাওয়া কথার ছন্দ।

 

ব্যস্ততার বালুচরে

পায়ের ছাপ মুছে যায়;

সময়ের অজুহাতে

কত প্রিয় ঋতু ঝরে যায়—

ঝরে যায় সখ্যের পাতা,

শুকিয়ে যায় সুদৃঢ় বন্ধনের শিকড়।

 

বৃক্ষ একদিনে মরে না—

আগে তার ছায়া কমে যায়,

তারপর পাখিরা ফিরে আসে না,

তারপর নীরবতা নামে ডালে ডালে।

 

যে বৃক্ষ অভিমানের বিষলতা

আর অহংকারের পরগাছায় আবৃত,

তার শিকড় যত গভীরই হোক—

একদিন সে ছায়াহীন হয়।

 

তবু উঠোনটি রয়ে যায়—

রয়ে যায় বটের পুরোনো ছায়া,

রয়ে যায় কিছু অসমাপ্ত গল্প,

আর সন্ধ্যা নামলে

নীরবে প্রশ্ন করে বাতাস—

আড্ডা কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছে,

নাকি আমরা নিজেরাই

হারিয়ে ফেলেছি একে অপরের ঠিকানা?

সম্পর্কিত বিষয়: