অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করার চেষ্টা করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যাচাই–বাছাইয়ের সময় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।
পাসপোর্ট আবেদনের সময় ওই যুবক নিজেকে মো. জামাল শেখ নামে পরিচয় দেন। তিনি যে তথ্যগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলো অনুযায়ী তার পিতার নাম মো. মুন্নু শেখ, মায়ের নাম রুনা বেগম এবং জন্ম তারিখ ২২ জুন ২০০২।
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেখানো হয় ১৯৫৯৩৪৪৮৮৬। ঠিকানা দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম পাড়া এলাকার ভূবশী, ডুবশী গ্রাম। জন্মস্থানও উল্লেখ করা হয় গোপালগঞ্জ।
তবে আবেদনের কাগজপত্র যাচাইয়ের একপর্যায়ে তার চেহারা জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি সাথে অমিল দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে বিস্তারিত অনুসন্ধানে রোহিঙ্গা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ করা হলে তার আসল পরিচয়পত্র পাওয়া যায়, যেখানে ভিন্ন তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই যুবকের প্রকৃত নাম রাইয়াস। তার পিতার নাম মো. আইয়ুব এবং জন্ম তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০১। পরিচয়পত্রের রেফারেন্স নম্বর ১১১২০১৭১২১৯১০২৭৩৬। নথিতে উল্লেখ আছে, তিনি ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করেছেন যে তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক এবং অবৈধভাবে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে।


































