নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

০৯ জুলাই ২০২৬

বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে ভারী যানবাহন,  দুর্ঘটনার শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২০:০৩, ৯ জুলাই ২০২৬

বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে ভারী যানবাহন,  দুর্ঘটনার শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ভাঙন ও রড বেরিয়ে আসায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবুও প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে ভারী যানবাহনসহ হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝামাঝি অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গার পলেস্তারা খসে পড়ে গর্ত তৈরি হয়েছে, যা সাময়িকভাবে স্টিলের প্লেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সেতুর অধিকাংশ রেলিং ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে রয়েছে। ফলে সেতুটি বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ আর এগোয়নি। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় যাত্রী রহিম বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেক যাত্রী সিরাজ বলেন, “সেতুর মাঝখানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা স্টিলের প্লেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা সহজেই বোঝা যায়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য খালের ওপর ডাইভারশন সড়ক তৈরির কিছু কাজ শুরু হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং তাঁর রাজনৈতিক সচিব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত। ডাইভারশন সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। ইতোমধ্যে নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

সম্পর্কিত বিষয়: