নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৮ নভেম্বর ২০২৬

আমার স্বামী ডাকাত নয়, সে সিএনজি চালক, পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:১২, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আমার স্বামী ডাকাত নয়, সে সিএনজি চালক,  পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তিন সন্তানের পরিবারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সিএনজিচালক আলমগীর (৪০) পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী নিলুফা (৩২)। স্বামীকে মারধর করে ডাকাতির কথা স্বীকার করানোর অভিযোগ তুলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।

 

নিলুফা ও আলমগীর দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বন্দরের নবীগঞ্জ কামাল উদ্দিনের মোড় এলাকায় তাঁদের বসবাস। সিএনজি চালিয়ে যে মানুষটি প্রতিদিন সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেন, আজ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে ডাকাতির অভিযোগ। আর স্বামীর এমন পরিস্থিতিতে তিন সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিলুফা।

 

নিলুফার ভাষ্যমতে, গতকাল রাত ১০টার দিকে তাঁর স্বামী আলমগীর সিএনজি নিয়ে মধুপুর সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে যান। গ্যাস নিয়ে ফেরার পথে মদনপুর থেকে একজন যাত্রী পান তিনি। ওই যাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় ইস্পাহানী এলাকার পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে যাত্রীটি চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

 

এ সময় পুলিশ তাঁর স্বামীকে আটক করে মারধর করে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নিলুফা। তাঁর দাবি, থানায় নেওয়ার পরও আলমগীরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ডাকাতি করতে এসেছেন—এমন কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

স্বামীর আটকের খবর না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নিলুফা। দীর্ঘ সময় পরিবারের কেউ জানতে পারেননি আলমগীর কোথায় আছেন। পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের মাধ্যমে স্বামীর আটকের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। এরপর বন্দর থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জানায়, আলমগীরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিলুফা বলেন, “আমার স্বামীর নামে আগে কোনো মামলা ছিল না। সে সিএনজি চালিয়ে আমাদের তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাত। আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে আইনের মাধ্যমে বিচার হোক। কিন্তু তাকে কেন মারধর করা হবে? কেন ভয় দেখিয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করানো হবে? আমার সন্তানদের এখন কী হবে? আমি আমার স্বামীর ন্যায়বিচার চাই।”

 

নিলুফার অভিযোগ, বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে একজন সাধারণ সিএনজিচালককে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত বিষয়: