নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে কারণে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৪:২১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে কারণে সাত খুন মামলায়  মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। শাস্তি হিসেবে টেলিফোনে যোগাযোগ ও পারিবারিক সাক্ষাতসহ সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া তাকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে উচ্ছৃঙ্খল ও অশোভন আচরণ এবং কারাবিধি না মানার অভিযোগে তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়। 

 

মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাত- উল-ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রশাসনিক কারণে গত ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতেন এবং কারাবিধি না মেনে নিজের ইচ্ছা মতো চলতেন। কারাকর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গেও তিনি অসম্মানজনক আচরণ করতেন।

তিনি বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জ কারাগারে দায়িত্বে আসার পর অন্যান্য সেলে আটক বন্দিদের পরিদর্শনে গেলে তারেক সাঈদ আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং সেল এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে কারাবিধি অনুযায়ী এক মাসের জন্য তার পারিবারিক সাক্ষাৎ বন্ধ রাখার শাস্তি দেয়া হয়। এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক বন্দি মো. কামাল হোসেন আগে থেকে সেলে রাখা ময়লাযুক্ত পানি আমার দিকে ছুড়ে মারেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন দাবি করেন, ২ সেপ্টেম্বর তারেক সাঈদকে শাস্তি দেয়ার পর তারেকই তাকে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ও ইন্ধন দেন। বিনিময়ে প্রতিদিন পাওয়া সিগারেট তাকে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও কামাল জানান।

মুন্সিগঞ্জ জেল সুপার বলেন, পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সাঈদের উপস্থিতিতে কামাল হোসেন জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটালে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে এবং কারাকর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কারাকর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অন্য লোক দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার বিষয়েও তাকে বলা হয়েছিল।

এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধেই কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। কামাল হোসেনকে এক মাসের ডান্ডাবেড়ি পরানো এবং অন্য কারাগারে বদলির শাস্তি দেয়া হয়। আর তারেক সাঈদ মোহাম্মদের টেলিফোনে যোগাযোগ ও পারিবারিক সাক্ষাৎসহ সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার শাস্তি দেয়া হয়। 

তিনি বলেন, তারেক সাঈদের আচরণ উগ্র, বদমেজাজি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উচ্ছৃঙ্খল। তাকে নিয়ন্ত্রণে কারাকর্তৃপক্ষ কঠোর ভূমিকা নিলে তিনি বিভিন্নভাবে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের হয়রানির চেষ্টা করেন।

বিষয়টি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ৪-৫ জন কারারক্ষী দিয়ে মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণে তিনি বা তার স্বজনদের মাধ্যমে কারাকর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা দুটি মামলাতেও তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলহাজতে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন 

চৌধুরী মায়ার মেয়ের জামাই তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়: