পানির সংকটে যখন চরম ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা, তখন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁতখানা বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি স্বপন আহমেদ। নিজের বাড়ির সাবমারসিবল পাম্প থেকে দিন-রাত পানি সরবরাহ করে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকার অন্তত দেড় শতাধিক পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে সহযোগিতা করছেন তিনি।
পানির পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ায় চৌধুরী বাড়ি বৌ-বাজার এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। দৈনন্দিন. প্রয়োজনের পানি সংগ্রহ করতে বাসিন্দাদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ির পাম্প থেকে স্থানীয়দের পানি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন স্বপন আহমেদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্থানীয় নারী-পুরুষ ও শিশুরা কলসি, বালতি, জারসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে স্বপন আহমেদের বাড়ির সামনে ভিড় করছেন। শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংগ্রহ করছেন তারা। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। এতে সংকটাপন্ন এলাকাটির বহু পরিবারের দৈনন্দিন পানির প্রয়োজন অনেকটাই পূরণ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির সংকটের কারণে রান্না, গোসল, খাবার পানি সংগ্রহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। স্বপন আহমেদের উদ্যোগে অন্তত জরুরি প্রয়োজনের পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
এ বিষয়ে স্বপন আহমেদ বলেন, পানির পাম্প বিকল হওয়ায় স্থানীয় মানুষজন অনেক ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার জন্যই আমার বাড়ির সাবমারসিবল পাম্প থেকে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। প্রতিবেশীরা আমার স্বজনের মতোই। তাদের সেবা করতে পারাটাকে আমি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করি।
তিনি আরও বলেন, “পাম্পটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত দিন-রাত পানি সরবরাহের এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।
স্বপন আহমেদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারাও। তাদের ভাষ্য, পানির সংকটের মধ্যে তার উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পানি নিতে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, স্বপন ভাই যে পানির ব্যবস্থা করেছেন, এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ হচ্ছে। পাম্প ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহযোগিতা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, সংকটের সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা শুধু সাময়িক পানির সংকটই লাঘব করছে না, বরং প্রতিবেশী ও সামাজিক দায়িত্ববোধেরও দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।


































