নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

০৭ জানুয়ারি ২০২৬

বন্দরে প্লাস্টিক ড্রাম কারখানায় অগ্নিকান্ডের ৩ দিনেও মামলা নেয়নি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:৪১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

বন্দরে প্লাস্টিক ড্রাম কারখানায় অগ্নিকান্ডের ৩ দিনেও মামলা নেয়নি

বন্দরে সোনাকান্দা হাট এলাকায় অবস্থিত প্লাস্টিক ড্রামের কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার তিন দিন  অতিবাহিত হলেও  এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ। এ ঘটনায় থানায়  অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম উদ্বেগ ও র্তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার  পরিবার।

পুড়ে যাওয়া গোডাউনের মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী গাজী হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সোনাকান্দা হাট সংলগ্ন তার প্লাস্টিক ড্রাম কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চলে আসছে। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধচক্রের সদস্য সাজ্জাদ, ইমন, চম্পা, নিহাদসহ কয়েকজন ছিচকে সন্ত্রাসী প্রায়ই অবৈধভাবে কারখানায় প্রবেশ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, কারখানার পাশেই মাদক সেবনকারীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। নিরাপত্তা প্রহরী বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। গত ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে কারখানায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি। অভিযোগ করায় আরও বিপদের মুখে পড়েছেন তারা। 

গাজী হোসেন বলেন, “থানায় অভিযোগ দেওয়ার জেরে সন্ত্রাসীরা আমার ভায়রা আলমগীরকে মারধর করছে এবং অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী জানান, সোনাকান্দা এলাকার সাজ্জাদ নামের একজন তার কাছে টাকা দাবি করে এবং জোরপূর্বক প্লাস্টিকের ড্রাম নিতে চায়। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় মামলার বাদী আলমগীর জানান, তিনি তার ভায়রা গাজী হোসেনের প্লাস্টিক ড্রামের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাজিয়া (১নং আসামি) ও নিহাদ (৪নং আসামি)-এর নির্দেশে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে গোডাউন থেকে ড্রাম চুরি ও মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, প্রতিবাদ করায় ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে এবং হাটের দারোয়ান আমানকে হুমকি দেয়। একই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোনাকান্দা মোড়ে ৩নং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সাজ্জাদ ও চম্পাসহ অন্যান্যরা হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালায়।

হামলায় তাকে বাঁশ, লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ১ ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত মামলা গ্রহণ, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: