নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

১১ জানুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ , আটক ৮ : হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২০:০০, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ , আটক ৮ : হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার

ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে লালখা শিয়াচর এলাকায় স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এদিকে সংঘর্ষের পরপরই সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দোলনসহ আটজনকে আটক করা হয়। আটককৃত জুয়েলের নিকট থেকে হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলো-কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্র দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ। এসময় কৌশলে পালিয়ে যায় ফতুল্লা থানা তাতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার।

পরবর্তীতে তাদের কে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিএনপির জয়নাল ও ইউনুস মাস্টারের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলছিলো। কয়েকমাস পূর্বে জয়নাল তার কয়েক সহোযোগিকে নিয়ে ইউনুস মাস্টার কে শাহজাহান রোলিং মিলস্ এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জয়নালের অফিসে তুলে এনে মারধর করে। 

ঘটনার একদিন পর ইউনুস মাস্টার বাদী হয়ে ৫ লাখ টাকার চাঁদাদাবীর অভিযোগ এনে জয়নাল সহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলো। এ ঘটনার পর বেশ কয়েকমাস নীরব ছিলো। হঠাৎ করে শনিবার সকালে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। 

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে  জয়নাল দৌড়ে তার নিজ বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় স্থানীয়রা বেশ কয়েকটি শব্দ শুনতে পায়। শব্দ পেয়ে তারা নিরাপদে আশ্রয় নেয়। পরে তারা জানতে পারে যে জয়নালের বাড়ীর ভিতর থেকে ইউনুস মাস্টারের গ্রুপকে লক্ষ্য করে গুলি বা বোমা ছুড়ে মারে। 

অপরদিকে ইউনুস মাস্টারের গ্রুপ প্রথমে পেছনে হটে গেলেও পরবর্তীতে তারা দেশীয় ধারালো তৈরি অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয়নালের বাড়ীর চারদিক দিকে ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছুরে মেরে বাড়ীর জানালার কাচ ভেঙ্গে ফেলে। সংঘর্ষের সময় আশপাশের বাড়ীর মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পরে। তারা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখে। 

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে  প্রথমে পুলিশ পরে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব  আসে। যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইউনুস মাস্টার পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও  যুবদল নেতা জয়নাল,থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান দোলন,তাঁতি দলের সাধারন সম্পাদক মীর ইমন সহ আট জনকে আটক করে। 

পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, উভয় গ্রুপের ৮জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের এককজনের কাছ থেকে গাজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশ। এবিষয়ে উর্ধ্বতন অফিসারদের জানানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: