নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৩ জুলাই ২০২২

কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী খালেকের অজানা কাহিনী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:১৬, ২৩ জুন ২০২২

কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী খালেকের অজানা কাহিনী

ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার ত্রাস আব্দুল খালেক। যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যা ইচ্চা তাই করছেন তিনি। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস করেন না। কারণ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপট চোখে পড়ার মতো। অপরাধের জগতে প্রতাপ খাটিয়ে নামের সাথে যুক্ত করেছেন কিলার খালেক। সন্ত্রাস, ডাকাতি, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। 

জনশ্রুতি রয়েছে, কালেকের করা  হত্যাকান্ডগুলোর অধিকাংশই ধামাচাপা পরে যাওয়ায় তা নিয়ে আলোচনা হয়নি কখনো। এছাড়াও নৃশংস, ঠাণ্ডা মাথায় ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী খালেকের ভয়েও অনেকেই মামলা করেননি। তবুও খালেক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় মামলার সংখ্যা ডজনেরও উপরে। এতেই বোঝা যায়, নিরীহ জনসাধারণের উপর খালেক বাহিনীর অত্যাচারের স্টিমরোলারের তাণ্ডব অবর্ণনীয়। ফতুল্লার সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে কুতুবপুরে কিলার খালেক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে এলাকাবাসী যুগের পর যুগ ধরেই নির্যাতিত। 

 

একাধিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাসের অন্ধকার জগতের খালেকের পদার্পণ ৮০' এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। নিতান্তই হতদরিদ্র ঘরের সন্তান খালেক। তার পিতা খবির মুন্সি অভাবের তাড়নায় ফরিদপুর থেকে প্রথমে ঢাকা আসেন স্ব-পরিবারে৷ এরপর কুতুবপুরের মুন্সিবাগে সামান্য জায়গা কিনে কোনোমতে কুঁড়েঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন৷  দারিদ্র ও অভাবের মধ্যে বড় হওয়া খালেকের  পড়াশোনা হয়নি পেরোয়নি প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি৷ 

 

অর্থ উপার্জনে কিশোর বয়সেই সন্ত্রাসের অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের খুনী- সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। অপরাধের পথে পথচলা খালেক  এক সময় নিজেও পরিণত হয় ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে।দূর্ হতদরিদ্র খালেক খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে এখন কোটিপতি ৷ 

 

সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করতে খালেক নিয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয়। বনে যায় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক। পদ পেয়ে তিনি হয়ে উঠেন আরো বেশী বেপোরোয়া। স্বীয় স্বার্থ হাসিলে ক্ষমতাবানের আশেপাশেই দেখা গেছে খালেককে। প্রয়াত এমপি কবরীর আমলে খালেক কবরীর ঘনিষ্ঠ সহচরে পরিণত হন। পরবর্তীতে শামীম ওসমান এমপি হলে তিনি নিজেকে এখন শামীম ওসমানের লোক বলে পরিচয় দেন।

 

এলাকাবাসীর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী খালেকের নামে  কুতুবপুরে সংগঠিত কবির হত্যা, স্বপন হত্যা, ভূট্টো হত্যা, বাবুল হত্যাসহ চাদাঁবাজী, ডাকাতি, ছিনতাই মামলা রয়েছে ফতুল্লা, শ্যামপুর, ডেমরা থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায়। কুতুবপুরে যুবলীগের সাধারন সম্পাদক খালেকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা, শ্যামপুর, ডেমরা থানায় রয়েছে প্রায় এক ডজন খানেক মামলা।

 

ফতুল্লা থানার মামলাগুলো হলো মামলা নং ৩(৯)৯৫,২৬(১)৯৫, ২৩(৩)৯৫, ১৯(২)৯৫, ৪৪(৮)০৪, ২০(১০)৯৮,৩৩(৪)৯৯,শ্যামপুর থানার মামলা ২৪(১)৯৯, ১৪০(১২)৯৭, ফতুল্লা থানার মামলা ৩৬(১০)০১,ডেমরা থানার মামলা নং ৩৯(১০)৯৮,৯৯(১০)৯৯। 

 

 এছাড়াও মাদক ব্যবসা পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খালেকের বিরুদ্ধে। বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে খালেকের ভাই মালেক তার কাছে রক্ষিত বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র ঢাকার বিভিন্ন পেশাদার সন্ত্রাসী ও কিলারদের কাছে টাকার বিনিময় ভাড়া দিতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 

 

 

সুত্রে প্রকাশ তৎকালীন এমপি কবরীর বিশেষ আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত আঃ খালেক ও তার বাহিনী কুতুবপুরজুড়ে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা পরিচালনা, শেল্টার দাতা, নীরব চাদাঁবাজী, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্মে সক্রিয় হয়ে উঠে। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, খালেক বাহিনীর কাছে আমরা পুরোপুরি জিম্মি হয়ে আছি৷ সন্ত্রাসেএ রাজত্ব কায়েম করেছে সে৷ ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি হওয়ায় দলীয় প্রভাব দেখায় খালেক। খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাসের মতো এত অভিযোগ থাকার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না সেটিই আমাদের প্রশ্ন। 

 

তথ্য মতে, কুতুবপুরের মাদকের গডফাদার খালেকের পরিবার। তার সরাসরি শেল্টারে তার ভাই, সন্ত্রাসী মালেকসহ অপর ভাইয়েরা ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদের ব্যবসা করে। মালেক নিজেও মাদকাসক্ত৷ ইয়াবা, মদ খেয়ে অকারণে সাধারণ মানুষকে নিয়মিতই মারধর করে মালেক৷ প্রায়ই মধ্যরাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে মাতলামি করতে দেখা যায় মালেককে৷ এর ফলে জনসাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে তাকে কয়েক দফা গণপিটুনিও দিয়েছে সম্প্রতি। তবে এতকিছুর পরে অপকর্ম থেমে নেই খালেক- মালেকের। কুতুবপুরকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে তারা। নিরীহ জনসাধারণের জমি জবরদখল করে তা বিক্রির মতো অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে এই বাহিনী। এছাড়া নীরব চাঁদাবাজিও চালিয়ে যাচ্ছে রীতিমতো৷ সর্বশেষ এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তার স্ত্রী সন্তানকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও লাঞ্চিত করে আলোচনায় আসেন খালেক। এ ঘটনায় পুলিশ খালেককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। খালেকের মতো দূর্ধর্ষ এবং ভয়ংকর অপরাধীকে গ্রেফতার করায় ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপুকে সাধুবাদ জানিয়েছে কুতুবপুরবাসী।

 

আরও পড়ুন :কুতুবপুরের অপরাধ জগতের সম্রাট খালেক গ্রেপ্তার

 

শত অপকর্মের হোতা খালেক-মালেক বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য একে,এম শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কুতুবপুরবাসী।

সম্পর্কিত বিষয়: