রমজানের প্রথম জুম্মায় ফতুল্লার মসজিদগুলোতে দেখা গেছে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। পবিত্র এই রমজান মাসের প্রথম জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য আজানের পূর্ব থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে মসজিদমুখী হতে শুরু করেন।
জুম্মার নামাজের আগেই অধিকাংশ মসজিদ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেক মুসল্লিকে মসজিদের বারান্দা, খোলা আঙিনা ও আশপাশের সড়কে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা থেকেই মুসল্লিদের আগমন বাড়তে থাকে। দুপুর ১টার দিকেই মসজিদগুলোর মূল নামাজ কক্ষ কানায় কানায় ভরে ওঠে। রমজানের প্রথম জুম্মা উপলক্ষে প্রতিটি মসজিদে বিশেষ বয়ান ও খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে রমজানের ফজিলত ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
ফতুল্লা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আজানের অনেক আগেই বিভিন্ন বয়সের মানুষ সমবেত হতে শুরু করেন। দুপুর ১টার মধ্যেই মসজিদটির সপ্তম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ হয়ে যায়।
ভেতরে জায়গা না পেয়ে বহু মুসল্লিকে মসজিদের বাইরের অংশ ও আশপাশের খোলা স্থানে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। খুতবায় ইমাম রমজানের গুরুত্ব, আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন, নেক আমল বৃদ্ধি এবং মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খুতবার সময় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ এক গভীর ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে অনেক মুসল্লিকে অশ্রুসজল চোখে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায়।
স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের প্রথম জুম্মা হওয়ায় এবছর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ফতুল্লার মসজিদগুলোতে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ, যা পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ফতুল্লার দাপা, আলীগঞ্জ, পাগলা, পঞ্চবটি, সস্তাপুর, রেলস্টেশন, পিলকুনীসহ ফতুল্লাঞ্চলের প্রতিটি মসজিদেই মুসল্লিদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতে পুরো রমজান মাসে নেক আমল করার তাওফিক, হালাল উপার্জন ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়।


































