নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারী খুন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:১৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারী খুন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রায় আট ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের একজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ভাঙারি ব্যবসার ২২ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন বন্দরের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) এবং মাহমুদপুর এলাকার প্রয়াত নাজির সরদারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৭২)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বন্দরের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকার পুরোনো মসজিদসংলগ্ন বাবার বাড়িতে খুন হন গৃহবধূ সুফিয়া আক্তার নিশি। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনিরকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিশি ও তাঁর স্বামীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সোমবার রাতে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নিশি ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কাটেন মনির। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর মনির নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের মাহমুদনগর এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাকসুদা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলে রাসেল (৪২) ও প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম (৬২) আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে জজ মিয়া জানান, তাঁর ভাই নাদিম হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার সাদ্দামের ভাঙারি ব্যবসার পাওনা ২২ লাখ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে ওই টাকা চাইতে যান তাঁদের মা মাকসুদা বেগম।

এ সময় সাদ্দাম ও হাবিউল্লাহ মিয়ার তিন ছেলে সামাউন হাবিব, অলিদ ও খোকনসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁর মায়ের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন জজ মিয়া। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ঘটনাস্থলেই মাকসুদার মৃত্যু হয়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রাসেল ও প্রতিবেশী শফিকুলকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, দুটি ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাকসুদা বেগম হত্যার ঘটনায় তাঁর ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, গৃহবধূ সুফিয়া আক্তার নিশি হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনির ৯৯৯-এ ফোন করে হত্যার দায় স্বীকারের পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বন্দরে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই নারী হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।