নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০৫ জানুয়ারি ২০২৬

রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৯:৩৮, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন

রূপগঞ্জের পূর্বাচলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রফতানি পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং বহিঃবিশ্বেও দেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রফতানি বাণিজ্যের অগ্রগতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’- শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশী-বিদেশী পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের নিকট দেশের উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতার বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে। বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবেও বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আব্দুর রহিম খান।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করা হবে।

মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মাসব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে দেশি-বিদেশি পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।

মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলাচল করবে।

এছাড়াও ভুলতা-গাউছিয়া থেকে মেলা প্রাঙ্গণে বিআরটিসির আর্টিকুলেট বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। নদী পথে মেলায় যাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। মেলায় চালু রয়েছে ই-টিকিটিং ও ‘পাঠাও’ সার্ভিস। নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের সেবায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

প্রবেশ টিকিট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা ও শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
 

সম্পর্কিত বিষয়: