নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

২৪ জানুয়ারি ২০২৬

সোনারগাঁয়ে প্রতিবন্ধী চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৫

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৮:৪৯, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

সোনারগাঁয়ে প্রতিবন্ধী চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৫

সোনারগাঁওয়ে সোহেল (৪১) নামে এক শারিরিক প্রতিবন্ধী চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে স্কচটেপ পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার ৪ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় সরাসরি হত্যায় জড়িত ২ জনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের হেফাজত হতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়নগঞ্জ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মো: সুজন মিয়া (৩৩), মো: শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মো: দুলাল মিয়া (৪৫), মো: আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো: আবুল কাশেম (৪০)।  নিহত মো: সোহেল সোনারগাঁয়ের নয়াপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৫টায় তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) পুলক সরকারের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনকে আজ আদালতে হাজির করা হবে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 পিবিআই জানান, নিহত মো: সোহেল শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৯ জানুয়ারী দুপুর আড়াইটার দিকে সোহেল প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন। কিন্তু তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ২০ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে লোকমুখে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর গ্রামে রাস্তার পাশের ঢালু জমিতে একটি মরদেহ দেখতে পান। সেখানে গিয়ে তারা লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

লাশের হাত, মুখ ও বুক স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নিহতের অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনও নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো: মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই আরও জানায়, গত ১৫ জানুয়ারী সুজন ও হীরা টাকার অভাবে প্রতিবন্ধী সোহেলকে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন তারা সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে আনন্দবাজারে যায়।

সেখানে তারা একটি এনার্জি ড্রিংক ও কাশির সিরাপ কিনে তা মিশিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরি করে সোহেলকে কৌশলে বেশি পরিমাণে পান করায়। সন্ধ্যার পর মুছারচর এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সোহেলের হাত-মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সুজন অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে আবুল কাশেম, আব্দুর রহিম ও দুলাল মিয়ার মাধ্যমে অটোরিকশাটি বিক্রি করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত কিনা তা আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।