নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার বাণীনাথপুর গ্রামে জোরপূর্বক বসতবাড়ি ভাঙচুর, চারপাশের ইটের সীমানা প্রাচীর ধসিয়ে দেওয়া এবং গাছপালা কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বাণীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জাকির হোসেন ও মোঃ মহিউদ্দিনের বসতবাড়িতে এই হামলা ও তছনছ করার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, বাণীনাথপুর গ্রামের টুকুন মেম্বারের ছেলে মোঃ মোশারফ ও মোঃ মালেক এবং পার্শ্ববর্তী সাহাপুর গ্রামের হাজী সিদ্দিক মুন্সীর ছেলে মোঃ সগিরের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা মুহূর্তের মধ্যে বসতবাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং প্রাঙ্গণে থাকা ছোট-বড় সব গাছপালা কেটে তছনছ করে ফেলে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। তারা এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের যুক্ত হলেও এলাকায় অপকর্ম চালাতে গড়ে তুলেছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। মোঃ মোশারফ স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত, সোনারগাঁও পৌরসভা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। মোঃ মালেক সোনারগাঁও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মোঃ সগির স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ব্ল্যাকমেইলের চক্র:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই চিহ্নিত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি কেনাবেচার দালালি, চাঁদাবাজি এবং ভুয়া সাইনবোর্ড খাটিয়ে জমি দখলের মতো অপকর্ম চালিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের জমিতে জোরপূর্বক নিজেদের বা ভুয়া সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা এবং চাঁদা না দিলে নানাভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করা তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ এতদিন মুখ খুলতে ভয় পেত।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর আকুতি:
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ জাকির হোসেন ও মোঃ মহিউদ্দিন জানান, "আমরা কোনো অপরাধ না করেও আজ নিঃস্ব। আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে সীমানা প্রাচীর ও গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা এই চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
এদিকে, এই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের ধারাবাহিক তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পুরো বাণীনাথপুর ও সাহাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। এলাকাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভূমিদস্যুতার হাত থেকে রক্ষা করতে ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


































