ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফলজ গাছের চারা দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ সময় জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা ও মেধার বিকাশে সহায়তা করা জেলা পরিষদের অন্যতম কর্মসূচি। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সেই ধারণা থেকেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ফলাফলে আমরা গর্বিত। মেধাবীদের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ আছে এবং থাকবে। আমরা নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ নয়, পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ চাই।’
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জকে ঘিরে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, মেধাবী তরুণদের হাত ধরে তা পরিবর্তন করতে হবে। ভবিষ্যতে বোর্ড পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রথম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করা হবে। মেধাবীদের জন্য জেলা পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। নিজেকে জানতে হবে। নিজের ভেতর থেকেই সবকিছু জানার ও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।’
সংবর্ধনা পাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী বায়েজিদ ইবনে ওবায়েদ ১২০২ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিজ জেলার জেলা পরিষদ থেকে এ ধরনের সংবর্ধনা পাওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমার ফলাফলের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।’
আরেক কৃতি শিক্ষার্থী সাদিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু সংবর্ধনা নয়, ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রেরণা। একই সঙ্গে আমাদের দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আগে দেখিনি। এটি আমাদের জন্য আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা জেলা পরিষদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।


































