নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

২৬ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ছুটির দিন পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ রোগীরা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:২৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ছুটির দিন পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ রোগীরা

নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল (ইউনিট-২)-এ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবারের পরিবর্তে

শুক্রবারে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তের ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় পড়েছেন সাধারণ রোগী, কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। 

 

কর্তৃপক্ষের টাঙানো এক নোটিশে জানানো হয়েছে, আগামী ১লা নভেম্বর ২০২৬ থেকে রবিবারের ছুটি বাতিল করে শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় বহির্বিভাগ ও চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ মূলত একটি শিল্পনগরী ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানকার সিংহভাগ সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, গার্মেন্টস ও বিভিন্ন কারখানার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে শুক্রবার। ফলে দিনটিতে তারা চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ দিনমজুর, কারখানার শ্রমিক ও চাকরিজীবীরা অন্য কোনো কর্মদিবসে কাজ ফেলে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে আসার সময় পান না।

 

এতদিন রবিবার হাসপাতাল বন্ধ থাকলেও ছুটির দিন শুক্রবারে সেবা চালু থাকার কারণে তারা সহজেই চিকিৎসা নিতে পারতেন। ফলে কাজের সময় বা দিনের আয় নষ্ট না করেই তারা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতেন।

 

ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে খালি পেটে ও খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, নিয়মিত ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয়, ডায়েট চার্ট আপডেট করা, এবং ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিলতা যেমন—চোখের সমস্যা, পায়ের ক্ষত বা উচ্চ রক্তচাপের ফলোআপ চিকিৎসা।

 

নভেম্বর মাস থেকে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ছুটির দিনে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইনসুলিনের ডোজ অ্যাডজাস্ট করানো খেটে খাওয়া মানুষ ও চাকরিজীবীদের জন্য একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

শুক্রবার হাসপাতাল বন্ধ থাকলে বাধ্য হয়ে নিম্নআয়ের শ্রমিক বা চাকরিজীবীদের কর্মদিবসে ছুটি নিয়ে কিংবা দিনের কাজ বাদ দিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে হবে। অনেক পোশাক শ্রমিক ও দিনমজুরের ক্ষেত্রে কর্মদিবসে কাজ না করলে হাজিরা কাটা যায় অথবা দিনের মজুরি থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে আয় বন্ধ হওয়ার কারণে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সুবিধা দিতে শুক্রবার ডায়াবেটিক হাসপাতাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ ডায়াবেটিক হাসপাতালে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ে অনেকটা কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছিল রোগীরা। ফলে অনেকে বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে না গিয়ে ডায়াবেটিক হাসপাতালে আসতো। এখন ডায়াবেটিক হাসপাতালের নিয়মিত রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্নয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হবে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

বন্ধের দিন পরিবর্তনের বিষয়ে ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন চুন্নু বলেন, শুক্রবার খোলা রাখলে হাসপাতালটির স্টাফ সহ সংশ্লিষ্ট লোকজন ঠিকমতো অফিস করতে চান না। তার এগারোটা বাজেই অফিস ছাড়তে শুরু করে। জুমার নামাজসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তারা এদিনটিতে তাদের কার্যক্রম পরিপূর্ণভাবে করেনা এবং তাদেরকে দিয়ে কথাও শোনানো যায় না। এতে রোগীদের ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া যায় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটি রবিবারের বদলে শুক্রবার করা হয়েছে। যাতে সময়মতো চিকিৎসা প্রদান করা যায়। 

 

তবে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব স্বেচ্ছাচারিতা কর্তৃপক্ষ কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি 

 

সাধারণ রোগী ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল ইউনিট-২ কর্তৃপক্ষ যেন সাধারণ মানুষের এই মানবিক ও বাস্তব দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নোটিশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করার স্বার্থে শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ না রেখে আগের মতো ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত বিষয়: