নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ময়না ক্লিনিকের পর এবার ছায়ানূর ক্লিনিকেও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার ছায়ানূর ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নিহত নবজাতকের মা নূপুর আক্তার (২৩) পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকার জিসানের স্ত্রী। নূপুরের মা বিউটি বেগমের অভিযোগ, গত শুক্রবার তাঁর মেয়েকে ছায়ানূর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন জুমার নামাজের পর নূপুর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরে নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই ক্লিনিকটিতে নবজাতককে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
বিউটি বেগমের দাবি, নবজাতকের মৃত্যুর পর ঘটনাটির দায় এড়াতে তাঁদের মাতুয়াইল হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এ ছাড়া চিকিৎসার সময় তাঁর মেয়ের জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ছায়ানূর ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. ফেরদৌসী ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নূপুরকে দুই দিন আগে প্রসবব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে আনা হয়। চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। তাঁকে আলট্রাসনোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও তা করানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. ফেরদৌসী বলেন, অপারেশনে তিনি নিজে ছিলেন না। সার্জিক্যাল চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ু সামান্য ছিঁড়ে গিয়ে থাকতে পারে। তবে সেটি গুরুত্বসহকারে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রোগী তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। রোগীর পানি ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে অস্ত্রোপচার করা হয়। অসময়ে সন্তান প্রসবের কারণে নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ছায়ানূর ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে চিঠি ইস্যু করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ক্লিনিকটির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না, জানতে চাইলে সিভিল সার্জন জানান, এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লিনিকটির সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর দুই দিন আগে একই এলাকার ময়না ক্লিনিকেও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্লিনিকগুলোর বৈধতা ও চিকিৎসাসেবার মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।


































