নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

১৪ আগস্ট ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে বন্দরে ডকইয়ার্ডে  হামলা-লুটপাট, মালিককে মারধর

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৯:১৭, ১৩ আগস্ট ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে বন্দরে ডকইয়ার্ডে  হামলা-লুটপাট, মালিককে মারধর

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে একটি ডকইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বল্টু আমজাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলায় বাধা দেওয়ায় ডকইয়ার্ডের মালিককে অফিস কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে বটগাছের নিচে নিয়ে মারধর করে আহত করার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বন্দর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দী এলাকায় ‘এস এ হাইড্রোলিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’ নামের একটি ডকইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. ফায়েজ আহম্মেদ (৩২) বাদী হয়ে বন্দর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—খন্দকার আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ (৫৫), তার দুই ছেলে মো. হৃদয় (৩০) ও মো. সুলতান মাহমুদ আপন (২৩) এবং সহযোগী আরিফ (২৫)। তারা সবাই নবীগঞ্জ-বক্তারকান্দী এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ডকইয়ার্ডের মূল ফটকে হামলা চালান। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক গেট ভেঙে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। পরে বেশ কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।

এ সময় বাধা দিতে গেলে ডকইয়ার্ডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের পুরো ঘটনা ডকইয়ার্ডের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ঈমান খান (৪২) অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে বটগাছের নিচে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা নিজেদের জুট কারখানা ও স্থানীয় একটি ক্লাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের একজন প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিতেন। এ সংক্রান্ত লিখিত প্রমাণ ও রসিদ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছে ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।

ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক মো. ফায়েজ আহম্মেদ বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। হামলাকারীদের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে বন্দর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বিষয়: