নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১০ অক্টোবর ২০২৬

বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতার পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৬:২২, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতার পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের পক্ষ ও সামেদ আলীর পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ এবং রাজু টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হৃদয় ও রাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ইটভাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং মাটি ও শ্রমিক সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। সরকার পতনের পর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ওই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে এসে ইটভাটাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বক্তাবলী খেয়াঘাটে খিচুড়ি রান্না করে দলবল নিয়ে খাওয়াদাওয়া করেন হালিম আজাদ। পরে তার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সামেদ আলীর প্রভাবাধীন আকবরনগর এলাকায় মহড়া দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালান। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন।

হালিম আজাদের বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগ

গুলিবিদ্ধ হৃদয়ের দাবি, তিনি বাসা থেকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন।

তিনি বলেন, “বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল লোক আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হালিম আজাদ তার পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করেন।”

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হালিম আজাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আগের হামলার অভিযোগও রয়েছে

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে বক্তাবলী বাজারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে হালিম আজাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি ও শ্রমিক সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে কমিশন আদায় এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয়কে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শনিবারের সংঘর্ষের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্পর্কিত বিষয়: