নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ-আখড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। জলাধার সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন এবং জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে এলাকাটিকে একটি আকর্ষণীয় নগরকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আখড়া এলাকায় অবস্থিত জিউস পুকুর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় পুকুরটি কচুরিপানা ও ময়লায় ভরে গেছে। বর্তমানে এটি মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই পুকুরটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে জিউস পুকুরকে একটি বৃহৎ ও আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে। দিঘির চারপাশে ওয়াকওয়ে, ঘাটলা, সিঁড়ি ও নিরাপত্তা রেলিং নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পানির গুণগত মান উন্নত করে গোসল ও সাঁতার শেখার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “নারায়ণগঞ্জকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। জিউস দিঘির উন্নয়ন সেই পরিকল্পনারই অংশ। এটি শুধু একটি জলাধার নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে মডেল মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব এলেও জিউস দিঘিকে কেন্দ্র করেই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দিঘি ও ধর্মীয় স্থাপনার সমন্বয়ে এলাকাটিকে আরও নান্দনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব করা হবে।
প্রশাসক বলেন, পুকুর পরিষ্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অবৈধ দোকানপাট অপসারণের পর ভারী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে খনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে। উদ্ধার করা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে পরিবেশ দূষণের কোনো সুযোগ না থাকে।
তিনি জানান, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর দিঘি ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা-আবর্জনা ফেলে জলাধারের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে জিউস দিঘি নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।


































