সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
অর্থ আত্মসাৎ বা প্রতারণার কোনো ঘটনা না ঘটলেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, মনগড়া তথ্য এবং সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে বিতর্কিত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে দাবি তাদের।
এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজী দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এম এ এম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ও লর্ড ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর চেয়ারম্যান পদে সুনামের সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনা, বিদেশে কর্মসংস্থান, ভিসা প্রসেসিংসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ বা প্রতারণার কোনো প্রমাণ নেই। প্রতিটি গ্রাহককে নিয়ম অনুযায়ী রশিদ, চেক ও স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তিপত্র প্রদান করা হয়।
মোঃ আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কানাডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে প্রসেস বিলম্বিত হলে তার অর্থ ফেরত চাওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতা নিয়ে মুফতী ইসমাইল হোসেন সিরাজী কয়েকটি চেক প্রদান করেন। এরপর ওই ব্যাক্তিকে একটি চেকের বিপরীতে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
পরের তারিখে ওই ব্যাক্তিকে এসে অপর একটি চেকের বিপরীতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও মোঃ আজিজুর ও তার সহযোগীরা ইসমাইল সিরাজীর অফিসে এসে উত্তেজক আচরণ, শারীরিক হুমকি এবং চাপ সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় ইসমাইল সিরাজী ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৮৬, জিডি ট্র্যাকিং নং ZGG38F) করেন।
এরপরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ওই ব্যাক্তিকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি নিস্পত্তি করার কথা বললেও সে আর আসেনি। উল্টো বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুমোদনহীন একটি ফেসবুক পেজে “নকি ভিডিও” শিরোনামে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়। এসব প্রতিবেদনে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসত্য অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মুফতী ইসমাইল হোসেন সিরাজী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য প্রার্থী। তার দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে বিগত দিনে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কাছেও অভিযোগ করেন ওই ব্যাক্তি। পরে শীর্ষ নেতারা বিষয়টি সমাধানের জন্য ডাকলেও সংশ্লিষ্ট ওই ব্যাক্তি আর তাদের কাছে যায়নি।
নেতাকর্মীর বলছেন, ব্যবসায়িক লেনদেন থাকতেই পারে। কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে অফিস পর্যায়ে সমাধান করা যেত। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ছোট করার চেষ্টা স্পষ্টতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যেহেতু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নিয়ে বর্তমানে ইসলামী দলগুলোর নানা সমীকরণ চলছে তাই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে একটি চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


































