নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মাছুম মিয়া (৪৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মাছুম মিয়া বন্দর থানাধীন কামতাল মেম্বার মার্কেটে অবস্থিত "আল্লাহুর দান ট্রেডার্স" নামে একটি ব্যবসায়িক গোডাউনের মালিক। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসতেন। এছাড়া অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ স্ট্যান্ড সংলগ্ন আলী আকবরের চায়ের দোকানের সামনে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা লোহার রড, কাঠের ডাসা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত শাওন নামে একজন ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার কপালের বাম পাশে কোপ দেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য অভিযুক্তরাও তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় অভিযুক্ত নুরুজ্জামান ও রুমা বেগম তার কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান। তার চিৎকার শুনে চাচা মোক্তার হোসেন, তাওলাদ হোসেন ও সাখাওয়াত এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নুরুজ্জামান, রুমা বেগম, শাওন, আরিফ, সৈকত, সবুজ, কুয়াত প্রধান, হাসিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামানকে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


































