নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

২১ জুন ২০২৪

বক্তাবলীতে বেপরোয়া সামেদ আলী বাহিনী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৫১, ৯ জুন ২০২৪

বক্তাবলীতে বেপরোয়া সামেদ আলী বাহিনী

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে সামেদ আলী ও তার বাহিনী। হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভাড়ায় গিয়ে মাস্তানি, ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়, মানুষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। এসকল ঘটনায় অন্তত ১০টি মামলা থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের নিরবতায় বীরদর্পে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে এই বাহিনীর সদস্যরা এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। 


জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে নানা অপকর্ম করে বক্তাবলী বাসীকে জিম্মি করে আসছে সামেদ আলী ও তার ছেলেসহ পুরো বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ও বন্দর থানায় ২টি হত্যা মামলা রয়েছে। প্রতারণা মামলায় সামেদ আলী ও তার ছেলেরা ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তও হয়েছিলো। এ মামলায় দীর্ঘসময় পলাতক থাকার পর ২০২১ সালে ৮ ডিসেম্বর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় তারা। 


এখানেই শেষ নয়, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, অন্যের জমি জবর দখল, হাট-ঘাট দখল, ইট ভাটার নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার সমগ্র ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে বারবার এলাকাবাসীর উপর হামলা-মামলা ও জোর জুলুম করে আসছে তারা। দুই বছর আগে বক্তাবলীর ৩ বারের চেয়ারম্যান এম শওকত আলীর বাড়িতেও হামলা চালায় এই সামেদ আলী ও তার ছেলেরা। 


এ ঘটনার পর দীর্ঘ প্রায় ২ বছর গ্রাম ছেড়ে ঘা ঢাকা দেয় সামেদ আলী বাহিনী। এরপর থেকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করছিলো। তবে, সম্প্রতি এলাকায় ফিরেই পুনরায় তান্ডব শুরু করে কুখ্যাত এই বাহিনীর সদস্যরা। গত ২৬ মে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালিয়ে অন্তত ১২জনকে টেটাবিদ্ধ করে তারা। ঐ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে ১৭ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এর ৫টি দিন পর ১লা জুন আবারও মানুষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করতে হামলা চালায় সামেদ আলী বাহিনী। এদিন শিশু ও কিশোর বয়সী ছেলেদের টেটা হাতে দৌড়াতে দেখা গেছে। এসময় সামেদ আলী বাহিনীর হামলায় অলিদ মিয়ার নামে এক ব্যক্তি হাতে, পায়ে ও মাথায় টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। 


এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার এলাকাবাসীর উপর হামলা, জোর-জুলুম, নির্যাতন, হত্যা-খুন করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। উল্টো প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে সামেদ আলী ও তার ছেলেরা এলাকায় তান্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তারা বলছে, একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট থাকার পরও এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায় সামেদ আলী বাহিনী। এই ঘটনায় ১৫/২০ জন গুরুতর আহত হয়, এ ঘটনায় সামেদ আলী বাহিনীর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হলেও পুলিশের নিরবতায় ও পরোক্ষ মদদে অন্তত ১০টি বাড়িÑঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 


এসব হামলার ঘটনায় সামেদ আলীকে প্রধান আসামী করে ও তার ছেলে সহ অন্তত ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে ২টি মামলা দায়ের করা হয় ফতুল্লা মডেল থানায়। এর আগে, গত ২৭ এপ্রিলের হামলায় ঘটনায় আরও ১টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলার বাদী ও তাদের স্বজনদের নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে বলে জানায় বাদীর ঘনিষ্ঠরা। 


এ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বক্তাবলী বিট পুলিশিং কর্মকর্তা এস আই মফিজুল ইসলামে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মারামারি হলেই পুলিশের দোষ দেয় সবাই। যেদিন হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেদিন ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব ছিলো সারা দেশে। ঘূর্ণিঝড়ের দিন রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন আছে এবং পরিস্থিতিও ভালো আছে বলে জানান তিনি। মামলাগুলোতে কিছু আসামী জামিনে আছে এবং কিছু আসামী পলাতক আছে বলেও জানান এই পুলিশ সদস্য। 


বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী বলেন, আমিও লোকমুখে শুনেছি বিভিন্ন মামলার আসামী হওয়া স্বত্ত্বেও গ্রামবাসীকে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে সামেদ আলী বাহিনী। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান  তিনবারের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী। 

সম্পর্কিত বিষয়: