নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫ শ' বছরের পুরনো বড় সরদার বাড়ি রক্ষা, অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁও জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গন ও সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিকের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংস্কৃতিক কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেয়ায় বড় সরদার বাড়ির অন্তত ১৫ টি স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান সংস্কার সহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান।
মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বড় সরদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বড় সরদার বাড়ির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া তদন্ত এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান
মানববন্ধনে সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁও বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদার বাড়ি জাতীয় প্রত্নসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাঁর দাবি, কোক স্টুডিও বাংলা সিজন-৪-এর শুটিংয়ের জন্য স্থাপনাটি মাত্র ছয় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, চার দিন ধরে চলা শুটিংয়ে ভারী লাইটিং, জেনারেটর ও বিভিন্ন ধরনের শুটিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপনার দেয়ালে গজাল ও রড ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। শুটিং শেষে বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও স্থাপনার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহেদ কায়েস বলেন, দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং অনুমতির শর্তগুলোও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বড় সরদার বাড়ির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে অতীতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা কীভাবে মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্য ব্যবহারের অনুমতি পেল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শাহেদ কায়েসের দাবি, শুটিংয়ের আগে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের স্থাপনাটির ভেতরে শুটিং না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও শুটিং হয়ে থাকলে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা তদন্ত করা উচিত।
তিনি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও স্বাধীনভাবে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিকের সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সুজন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সংগঠনের সহসভাপতি কবি রহমান মুজিবসহ স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতারা।


































