নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইউআরডিও) মো. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণে ঘুষ নেওয়া, প্রশিক্ষণের হলরুম ভাড়ার অর্থ জমা না দেওয়া, সমিতির অর্থ অনিয়ম করে উত্তোলন এবং বাড়িভাড়া পরিশোধ না করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং তদন্ত চলাকালে নাজমুল ইসলামকে আড়াইহাজার থেকে প্রত্যাহার অথবা সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে আড়াইহাজার উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মহাপরিচালক বরাবর ডাকযোগে পাঠানো এক লিখিত অভিযোগে এসব দাবি জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের সময় সদস্যদের কাছ থেকে ন্যূনতম ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি ঋণের বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসএমই ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা কমিশন বা ঘুষ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছে পরিচালনা পর্ষদ।
হলরুম ভাড়ার অর্থ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় ১৪টি তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের হলরুম ভাড়া বাবদ ২১ হাজার টাকা পাওনা থাকলেও তা ইউসিসিএর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের ২৫টি প্রশিক্ষণ এবং উপজেলা সমবায় দপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের হলরুম ভাড়ার অর্থও সমিতির হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলার ‘জোড়া বাড়ি’র ভাড়া বাবদ উপজেলা তথ্য আপার কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা নেওয়া হলেও মে মাস পর্যন্ত ওই অর্থ ব্যাংক বা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে পেরে বিআরডিবির নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালককে অবহিত করেন বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইউআরডিও নাজমুল ইসলাম জোড়া বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করলেও নির্ধারিত ভাড়া বা সরকারি ফি দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের আরও অভিযোগ, তাদের অজ্ঞাতে ও ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন চেক ইস্যু ও নগদায়ন করা হয়েছে। পরে এসব অর্থ বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে। কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং মাঠকর্মীদের কাছ থেকে অফিসার্স ক্লাবের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।
সেবাগ্রহীতা, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা দরিদ্র সমবায়ী সদস্য ও কৃষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জন্ম, মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ দিতে অর্থ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সনদসংক্রান্ত প্যাড ও রেজিস্টার নিজের কার্যালয়ে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের এক পিয়ন স্বাক্ষর জাল করে সনদ দিতেন এবং পরে ওই পিয়নের চাকরি চলে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউসিসিএ পরিচালনা পর্ষদের দাবি, এসব অভিযোগের কারণে আড়াইহাজার বিআরডিবি ও ইউসিসিএর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সমবায়ীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, ঋণ বিতরণে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত, হলরুম ভাড়ার অর্থের হিসাব নিরীক্ষা এবং অনিয়মে নেওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে নাজমুল ইসলামকে আড়াইহাজার থেকে প্রত্যাহার অথবা সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ (ডালিম), সহসভাপতি আবু দাইয়ান মোল্লা এবং পরিচালক আলমগীর হোসেন, মোজাম্মেল হক, গণি মোল্লা, দুলাল হোসেন, হারুন মিয়া ও সোমা আক্তারের নাম রয়েছে।
তবে ইউআরডিও মো. নাজমুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বিআরডিবির উপপরিচালক মো. ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিআরডিবির মহাপরিচালক এ কে এম তারেক বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক চিঠিই আসে। তবে আড়াইহাজারের ইউআরডিও নাজমুল ইসলামের বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা চিঠি পাইনি। ডাকযোগে এমন কোনো অভিযোগের চিঠি পাঠানো হয়ে থাকলে তা খুঁজে দেখা হবে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


































