নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুট্টা ব্যবসার নামে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. মোস্তফা আসাদ (২৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ।
গ্রেপ্তার মোস্তফা আসাদ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’-এর প্রোপ্রাইটর।
পিবিআই মো: মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম জানান, তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর থানাধীন আন্দুলবাড়িয়া এলাকায় আসাদ এগ্রো টেক লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলায় মোস্তফা আসাদ ও তার বাবা মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ভুক্তভোগীর সঙ্গে আসামিদের আগে থেকেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে আসামিরা ভুট্টা সংগ্রহ, গুদামজাত ও পরবর্তীতে বিক্রির মাধ্যমে লাভের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হয়ে ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ২৪ মে আসামিদের সঙ্গে ‘মৌসুমী ভুট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আসামিদের প্রতিষ্ঠান আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে বিভিন্ন সময়ে মোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে তার পাওনা ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ না করে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। টাকা চাইলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, মামলাটি সিডিউলভুক্ত হওয়ায় তারা স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) অপু দে-এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা আসাদ তার বাবা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নেওয়া অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন এবং মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
পিবিআই আরও জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় একই ধরনের অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক আসামি মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

































